Uncategorized

যৌতুককে না বলার প্রত্যয় নিলেন যুবকরা

মো. নজরুল ইসলাম : ’নারী-পুরুষে বৈষম্য হ্রাস করি, নারীবান্ধব সাংস্কৃতিক সমাজ গড়ি’ এই স্লোগানকে ধারন করে মানিকগঞ্জ সিংগাইর অঞ্চলে কনকলতা কিশোরী ক্লাব, বিনোদপুর নয়াপাড়া তরুণ সংঘ ও নিরাভরন থিয়েটরের যৌথ আয়োজনে বারসিক এর সহযোগীতায় বারসিক বায়রা রিসোর্স সেন্টার মিলনায়তনে আাজ সকাল ১০.০০ ঘটিকা থেকে ৩.৩০ মি. পর্যন্ত জেন্ডার বৈচিত্র্য আন্ত:নির্ভরশীলতা ও বহুত্ববাদি সমাজ বিষয়ক যুব কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় কনকলতা কিশোরী ক্লাবের সভাপতি তানিয়া আক্তারের সভাপতিত্ত্বে বারসিক প্রকল্প সহায়ক আছিয়া ও রিনা আক্তারের কন্ঠে দেশাত্ববোধক গান দিয়ে অনুষ্ঠানের সুচনা করা হয়। কর্মশালার লক্ষ উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম বিষয়ক ধারনাপত্র পাঠ
করেন বারসিক প্রকল্প কর্মকর্তা মো.নজরুল ইসলাম। পর্যায়ক্রমিক সেশনে জেন্ডার বিষয়ক ধারনাপত্রে বৈষম্যভিত্তিক সমাজে বৈচিত্র্য ও আন্ত:নির্ভরশীলতা নিয়ে আলোকপাত করেন বারসিক প্রোগ্রাম অফিসার শিমুল কুমার বিশ্বাস,করোনাকালীন নারীর অবস্থা ও অবস্থানের আলোকে সাংস্কৃতিক চর্চাকে বেগবান করতে আলোচনায় সহায়কের ভূমিকা পালন করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমীর আবৃত্তি প্রশিক্ষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্টতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ সনেট, বহুত্ববাদি সাংস্কৃতিক চর্চার আলোকে কিভাবে নারীবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠা বিষয়ক আলোচনায় সহায়ক ছিলেন বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারি বিমল রায়।
সহায়কদের আলোচনার আলোকে অংশগ্রহনকারীরা নারী-পুরুষে বৈষম্য,বাল্য বিবাহ,যৌতুক ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে করনীয় বিষয়ক প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে থেকে- আরমিনা আক্তার বলেন-নারী-পুরুষে বৈষম্য হ্রাস করতে হলে নারীকে সুশিক্ষা অর্জন করতে হবে।সমাজই নারী-পুরুষে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে,তাই এর সমাধান সমাজকেই করতে হবে। সাদিয়া আক্তার বলেন নারী-পুরুষের সমতা আনতে হলে আগে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।
সুলতান আলী ও আদনান রুবেল বলেন- জেন্ডার সমতা,স্বাধীনতা,সক্ষমতা,আস্থা অর্জনে নারী-পুরুষ দুজনকেই এগিয়ে আসতে হবে। নাট্যকর্মী শরিফুল বলেন-বৈষম্যটা পরিবার থেকেই শুরু হয়,তাই আমাদের পরিবার থেকেই ভয়কে জয় করার কাজে অংশগ্রহন করতে হবে। রনি ও শাহিন আলম বলেন-সমাজ থেকেই ভেদাভেদ সৃষ্টি হয়,তাই সামাজিক সচেতনতা বৃদ্বিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। হারিজ উদ্দিন শিপু ও আকবর আলী বলেন- নারী-পুরুষে সমানতালে কাজে অংশগ্রহন করতে হবে,নারীদের জড়তা কাটিয়ে উঠতে হবে,সবাইকে সুযোগ দিতে হবে। তানিয়া আক্তার বলেন- নারীর অগ্রযাত্রার প্রথম বাধা পরিবার। পরিবারে বিশ^াস অর্জন করতে হবে এবং সাহস নিয়ে বলতে হবে আমি যৌতুক দিয়ে বিয়ে করব না।
যৌতুক,ইফটিজিংসহ সামাজিক সহিংসতা প্রতিরোধ করতে হবে। যৌক্তিকতা তুলে ধরতে হবে,নিজের প্রতি বিশ^াস রাখতে হবে,পরিবার থেকেই প্রতিবাদী হইতে পারলে বাল্য বিবাহ,যৌতুক,ইফটিজিং প্রতিরোধ করতে পারবো। অংশগ্রহনকারীরা একযোগে যৌতুক ও বাল্য বিবাহকে না বলেন এবং তারা কেউ যৌতুক নিয়ে বিয়ে করবে না এই প্রত্যয় করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button