আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে নিহত পাঁচ লাখ

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে’ এযাবতকালে প্রায় ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। গত দেড় দশক ধরে ইরাক, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ যুদ্ধের নামে এসব মানুষকে হত্যা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইণ্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার সন্ত্রাসী হামলার পর অস্থির হয়ে পড়ে বিশ্বরাজনীতি। এরপর আল কায়েদা দমনের নামে সামরিক অভিযান শুরু হয় আফগানিস্তানে। এরপর ক্রমেই ইরাক, লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শুরু হয় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের আগ্রাসন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের সংখ্যা চার লাখ ৮০ হাজার থেকে বেড়ে পাঁচ লাখ সাত হাজার হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যাটা এর চেয়ে বেশি হতে পারে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে এক লাখ ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন গত দুই বছরে।
গবেষণায় বলা হয়, আমেরিকার জনগণ, গণমাধ্যম এবং আইনপ্রণেতারা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামায় না। নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি ইঙ্গিত দিচ্ছে এটি কমার সম্ভাবনা কম এবং যুদ্ধ দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে।’
নিহতদের মধ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠী, স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী, বেসামরিক নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র বাহিনী রয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনের লেখক নিতা ক্রাউফোর্ড বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও স্থানীয় বাহিনী যাদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন তারা বেসামরিক নাগরিক হতে পারেন।
ক্রাউফোর্ড লিখেছেন, ‘এসব যুদ্ধে মোট মৃতের সংখ্যাটা আমরা হয়তো কোনো দিনই জানতে পারব না। উদাহরণস্বরূপ, ইরাকের মসুল ও অন্যান্য শহর আইএসের কাছ থেকে মুক্ত করতে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু তাদের দেহ শনাক্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে।’
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকে এক লাখ ৮২ হাজার ২৭২ জন এবং দুই লাখ চার হাজার ৫৭৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাছাড়া আফগানিস্তানে ৩৮ হাজার ৪৮০ জন এবং পাকিস্তানে ২৩ হাজার ৩৭২ জন নিহত হয়েছেন। ইরাক এবং আফগানিস্তানে প্রায় সাত হাজার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধের প্রভাবে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বা রোগসহ পরোক্ষভাবে কতজন মারা গেছেন এই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button