মুখরিত বানিয়াজুরী চায়ের আড্ডা চত্বর

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর, মানিকগঞ্জ : ঈদের দিনে পদচারণায় মুখরিত ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী চায়ের আড্ডা চত্বর। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করতে এসেছেন। ঈদের আনন্দে ঘুরোঘুরি, সাথে মজাদার নানা খাবারের স্বাদ গ্রহণ। তাই ভীড় বাড়ছে প্রতিনিয়ত।
বড়দের পাশাপাশি এখানে রয়েছে শিশুদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ‘শিশু চত্বর’। রয়েছে শিশুদের পছন্দের বিশেষ খাবার আইটেম। মাথার ওপর রঙিন বিশাকৃতির ছাতা। চেয়ার, টেবিল তৈরি করা হয়েছে সুদৃশ্য কাঠের গুঁড়ি দিয়ে। বড় পর্দায় শিশুতোষ অনুষ্ঠান দেখার ব্যবস্থা। চত্বরের চারপাশে হরেক রকম ফুল গাছ আর বাহারী সাজে সজ্জিত।
ঢাকা আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ডের অদূরে অবস্থিত এই চায়ের আড্ডা রেস্টুরেন্ট। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য লোকের সমাগম হয়। ছুটির দিনে ভীড় বাড়ে। আর ঈদের ছুটি উপলক্ষে এই চত্বর হয়ে উঠে মিনি বিনোদন কেন্দ্র। পছন্দের জায়গা হিসেবে অভিভাবকরা নিয়ে আসেন তাঁদের সন্তানদের।
এখানে পাওয়া যায় দেশের প্রায় সব ব্র্যান্ডের বেশি ও কম দামি আইসক্রিম, বাহারী বিস্কুট, চকোলেট, চা, কফি, চিপস, কোমল পানীয়, জুস ইত্যাদি। মিলবে ন্যায্য দামে দেশীয় টাটকা ফলমূল। আর সবচেয়ে বেশি কদর গভীর দুধের ক্ষির আর মালাই চা। মূলত এটির আকর্ষণে তরুনরা ছুটে আসেন দূর দূরান্ত থেকে।
ঈদের দিন ৪ টায় দেখা যায়, শিশুদের পদচারণা আর কলকাকলীতে মুখর এই প্রাঙ্গণ। রয়েছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
শোলধারা গ্রামের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিতু, সাথী, কাকলী ও ববিতা বলে, আমরা চার বান্ধবী মিলে ঘুরতে বেরিয়েছি। ঈদ উপলক্ষে সাজানো পরিবেশ দেখে অনেক ভালো লেগেছে। আমরা মাঝে মাঝেই আসি।
একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাজিব, সোহেল, পলাশ মানিকগঞ্জ শহর থেকে এসেছেন এখানকার তৈরি গরুর দুধের বিশেষ ক্ষির চা খেতে। পছন্দের খাবার পর সেলফি তুলতে ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।
শিবালয় উপজেলার খালিশা গ্রামের আজিম উদ্দিন শিকদার এসেছেন পরিবার নিয়ে। তিনি বলেন, আসা যাওয়ার পথে দেখি কিন্তু এখানে প্রথম আসলাম। ঠান্ডা পরিবেশে বাগানের মধ্যে বসে চা পান করলাম।
তার মেয়ে স্কুল শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, রেস্টুরেন্ট দেখে মনে হয় ছোট পার্ক। দুটি আইসক্রিম খেলাম। খুব ভালো লাগছে। অনেক ছবি তুলেছি।
চায়ের আড্ডা’র পরিচালক মোঃ রিপন মিয়া বলেন, ঈদ উপলক্ষে নব সাজে সজ্জিত করা হয়েছে চায়ের আড্ডা। ঈদের দিন সকাল থেকে শিশু থেকে সব বয়সী মানুষজন আসেন। বিকেল থেকে রাত দশটা ভীড় বেশি হয়।
বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টু বলেন, বিগত দুই বছর মহামারি করোনার কারনে শিশুদের বিনোদন কেন্দ্রগুলো ছিল বেশিরভাগ সময় বন্ধ। উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে রয়েছে একটি শিশু পার্ক। এছাড়া শিশুদের বিনোদনের তেমন স্থান নেই। শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও এই চায়ের আড্ডায় অবসর সময় উপভোগ করতে আসেন।



