
রক্তনালীর টিউমারে আক্রান্ত সাতক্ষীরার কিশোরী মুক্তামনির অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই তার আরো একটি অস্ত্রোপচার হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন সোমবার একথা বলেন।
তিনি বলেন, সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না করায় মুক্তামনির অবস্থা এতটা খারাপের দিকে চলে গিয়েছিলো। তার রক্তনালীতে প্রথমে একটি ছোট্ট টিউমার হয়। কিন্তু এর কোনো চিকিৎসা হয়নি। ঝাঁড়ফুকের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করায় আসল সমস্যাটিও ধরা পড়েনি। এতে আস্তে আস্তে টিউমারটি বড় হতে থাকলে তার হাত ফুলে যায়।
ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে গত ১২ আগস্ট অপারেশন করে মুক্তামনির হাতের টিউমারটি অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপাচারের পর রবিবার মুক্তামনির হাতের দ্বিতীয় দফা ড্রেসিং করা হয়েছে। অপারেশন থিয়েটারে গতকাল সকাল সাড়ে আটটা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তার হাতে ড্রেসিং করা হয়।
ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, মুক্তামণি ভালো আছে। অস্ত্রোপচারের জায়গায় কোনো সমস্যা নেই। তার হাতের অবস্থা এখন ভালোর দিকে।
সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের মুদি দোকানি ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে মুক্তামনি (১২)। জন্মের দেড় বছর পর তার হাতে একটি ছোট মার্বেলের মতো গোটা দেখা দেয়। এরপর সেটি বাড়তে থাকে। আস্তে আস্তে আক্রান্ত ডান হাত ছোট আকারের গাছের গুড়িতে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে সেখানে পচন ধরে।
সম্প্রতি মুক্তামনির এ বিরল রোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর গত ১১ জুলাই তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামনির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।
গত ৫ আগস্ট মুক্তামনির বায়োপসি করা হয়। এতে তার রক্তনালিতে টিউমার ধরা পড়ে। এরপর গত ১২ আগস্ট অস্ত্রোপাচার করে সেটি অপসারণ করা হয়। সামন্তলাল সেন জানান, সুস্থ হতে মুক্তামনির আরও কয়েকটি অস্ত্রোপাচারের প্রয়োজন হবে। -বাসস




