মুক্তাগাছার ‘মেসি’ তহুরা

বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক মহিলা ফুটবলে আলোচিত নাম তহুরা খাতুন। একের পর এক হ্যাটিট্রক করে দেশকে এনে দিচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ জয়। বিপক্ষ দলকে করছেন তছনছ। সর্বশেষ এবারের হংকংয়ের জকি ক্লাব মহিলা ফুটবলেও দুই হ্যাটট্রিক তার। ইরান ও হংকংয়ের বিপক্ষে তার এই দুই হ্যাটট্রিক। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার জালে বল পাঠান দুইবার। আসরে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে নেপথ্য তিনি।
দেশী ও আন্তর্জাতিক আসরে আরো অনেকবার এক ম্যাচে তিন বা ততোধিক গোল করার কৃতিত্ব আছে তহুরার। বলা যায় হ্যাটট্রিক গার্ল। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও তাকে সবাই চেনে তহুরা নামে। অথচ নিজ গ্রামে এই নামে কেউ তাকে তেমন চেনেন না। না, তিনি সেখানে অপরচিতিও কেউ নন। ব্যাপক পরিচিতি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার মুক্তাগাছা গ্রামে। সেখানে তাকে সবাই ডাকেন মেসি নামে। পুরো ধোবাউড়া থানাতেই মেসি নামে পরিচিত তিনি। তহুরার মতে, গ্রাম ও থানায় আমাকে তেমন কেই চিনবে না তহুরা নামে। সেখানে আমার উপাধি মেসিই।

২০১১ সালে বঙ্গমাতা আসরের মধ্য দিয়ে ফুটবলে অভিষেক বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলের এই খেলোয়াড়ের। তখনই গ্রামের সবাই তাকে আর্জেন্টিনার ফুটবলারটির নামে ডাকতে থাকে তাকে। বল নিয়ে তার দৌড়ের স্টাইলই এনে দেয় এই খেতাব। অথচ শুরুর দিকে তাকে মেসি বলে ডাকালে খুব বিরক্ত হতেন তহুরা। কাল বাফুফে ভবনে জানালেন, ‘আমার খুর রাগ হতো সবার ওপর। কী আমাকে মেসি মেসি বলে ডাকে। আসলে আমি তখন চিনতামই না মেসি কী জিনিস। বা কার নাম এটা। ২০১৩ সালের দিকে চিনতে পারলাম আসল মেসিকে। আর এখন এই ফুটবলারটিই আমার আদর্শ। আর দেশে স্ট্রাইকার সাবিনা খাতুন।
২০১৫ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ রিজিওনাল ফুটবলে প্রথম লাল-সবুজ জার্সি গায়ে তোলা এই ফরোয়ার্ডের। সেবার তার খেলার সুযোগ হতো বদলি ফুটবলার হিসেবে। ২০১৬ সালে তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত এএফসির এই আসরে প্রথম একাদশের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। সেবার মোট গোল করেছেন ১০টি। হ্যাটট্রিক করেছেন ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে। আরো দুটি না একটি হ্যাটট্রিক করেছেন অন্য ম্যাচগুলোতে তা মনে করতে পারলেন না।

কোচ ছোটন জানান, তহুরা হ্যাটট্রিক করেছিলেন নেপালের বিপক্ষেও। এবারের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবলেও নেপালের বিপক্ষে করেছিলেন তিন গোল। পরে অবশ্য ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ায় গোলের দেখা পাননি। ২০১৬ সালের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ আসরে তার আছে তিন গোল। তবে এখন মূল জাতীয় দলে খেলা হয়নি। এখন লক্ষ্য সিনিয়র জাতীয় দলে চান্স পাওয়া। ভারতের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকই তার সবচেয়ে স্মরণীয়। ম্যাচটি যে ছিল ফাইনাল।
ময়মনসিংহের কলসিন্দুর স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী তহুরা। মফিজ স্যারই তাকে ফুটবলে নিয়ে আসেন। এই ফুটবল খেলার কারণেই তহুরাদের গ্রামে বিদ্যুতের সংযোগ গেছে। এটাকে বড় অর্জন বললেন তিনি। এখন দাবি- তার বাড়ি যাওয়ার রাস্তাটি যেন ভালো করা হয়। জমির আইল ডিঙ্গিয়ে বাড়ি যেতে হয় তাদের। কৃষক বাবার পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের মধ্যে তৃতীয় তহুরা। ফুটবল খেলেই এখন তিনি লাখোপতি।
সুত্র: নয়া দিগন্ত




