শিরোনাম

মানিকগঞ্জে রোগাক্রান্ত ২ হাজার মানুষ:৬ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ: এবারের বন্যায় ঘিওর উপজেলাসহ মানিকগঞ্জে বিভিন্ন এলাকার নানা রোগে শিশুসহ দুই হাজারেরও বেশি হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া গত এক সপ্তাহে বন্যার পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।
মানিকগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. ইমরান আলী বলেন, বন্যার পানিতে সাধারনত পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়া, জন্ডিস, টাইফয়েড ও আমাশয়, চোঁখের প্রদাহ, ঠান্ডাজনিত কাশি, সর্দি ও নিওমোনিয়া হয়ে থাকে। মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও ৭২টি ভাসমান মেডিকেল টিম কাজ করেছে এসব মানুষের স্বাস্থ্যসেবায়। তিনি আরো জানান, শুধুমাত্র পানিবাহিত রোগেই আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬১৭ জন। এছাড়া ঠান্ডাজনিত কারণে ২৮৬ জন, চর্মরোগে ৩৯৪ জন, চোঁখের প্রদাহে ১৬৫ জন ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছে।
অপরদিকে সাপ ও বিষাক্ত পশুর কামড়ে ২০ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বেড়েছে সবজির দাম
এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঘিওর উপজেলাসহ মানিকগঞ্জে জলাবদ্ধতাসহ বন্যার কারনে বৃদ্ধি পেয়েছে সবজির দাম।
মঙ্গলবার জেলার বিভিন্ন বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যার কারনে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে সবজির দাম। সবজি চাষি ও বিক্রেতারা বলছেন, দফায় দফায় বৃষ্টিতে এবং বন্যার কারনে সবজি আবাদ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সবজী ক্ষেত। এতে বাজারে কমে গেছে সবজির সরবরাহ। ফলে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে দেশি ৩৮ থেকে ৪০, ভারতিয় ৩৬ টাকায়, বেগুন বিক্রি হয়েছে ৩৮ টাকায়, শশা বিক্রি হয়েছে ৩৮ টাকায়, টমেটো ৫০, বিভিন্ন রকম শাক ১৫ থেকে ২০, আলু ২২, পেঁপে ২০, মিস্টি কুমড়া ২৪,করোলা ৪০, কাঁচামরিচ ১২০, কাকরোল ৪০, প্রতিটি লাউ ২৫, কুমড়া ২৪, প্রতিহালি কলা ১৬, লেবু ১৪, আদা ১৬০, রশুন ৮০, ঢেড়স ৪০, পটল ২৮, সজিনা ১’শ, ওল ৪০, কচু ৩২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন সবজির দাম আরো বাড়তে পারে। প্রতিকেজি ছোটমাছ ১২০ থেকে ৪’শ, রুই-কাতলা ১৪০ থেকে ১৮০, সিলভার কার্প ১১০, পাংগাস ১০০, গরুর মাংস ২৬০, খাসির মাংস ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া গতকাল মুরগির দাম কিছুটা কমে খুচরা বিক্রেতারা প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩৫, সোনালী ২৩০ এবং দেশি ৩’শ টাকায় বিক্রি করেছে। এদিকে খুচরা বিক্রেতারা গতকাল প্রতিকেজি মোটাচাল (গুটিস্বর্ণা) ৩৩/৩৪, লাল স্বর্ণা ও পারিজা ৩৫/৩৬, আটাশ চাল ৩৮ থেকে ৪২, মিনিকেট ৪৪ থেকে ৪৮, আটা খোলা ২৮, প্যাকেট আটা ৩৩ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া গতকাল প্রতিলিটার সয়াবিন তেল খোলা ৯০ এবং বোতলজাত ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গতকাল প্রতিকেজি মসুর ডাল বড়দানা ৭৫, ছোটদানা ১’শ, মুগডাল বড়দানা ৮০, ছোটদানা ১২০, ছোলার ডাল ৬৫, এংকর ডাল ৪৮ টাকায় এবং চিনি বিক্রি হয়েছে ৪৪ টাকায়। এদিকে কিছুটা কমে গতকাল প্রতিহালি সাদাডিম ৩০ ও লালডিম ৩২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button