
শফিকুল ইসলাম সুমন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, ০৫ জুলাই।
মানিকগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাসুদ রানা (৩২) কে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে এবং মুখে বিষ দিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে সৎ ভাই-বোনসহ আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে।
এঘটনায় ভুক্তভোগী মাসুদ রানার ভাবী আখি আক্তার বাদী হয়ে ৯জনের নাম উল্লেখ্যসহ অজ্ঞাত ৬জনকে আসামী করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন। এর আগে গত ২৭ জুন ঢাকায় চাকুরীর পরীক্ষ দিয়ে ফেরার পথে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রামের মাছুরী এলাকায় মাসুদ রানাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা করে পালিয়ে যায় অভিুক্তরা।
আহত মাসুদ রানা মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রামের মাছুরী এলাকার মৃত মুসলেম উদ্দিনের ছেলে। আর অভিযুক্তরা সম্পর্কে তার সৎ ভাই-বোন ও ভাগিনা-ভাগনী।
অভিযুক্তরা হলেন, আতিক হাজারী (২৮) নাঈম হোসেন (৩২) মেহেদী হাসান বিল্টু (৫০) সাইফুল ইসলাম (২৫) শামিম মিয়া (২৫) পপি আক্তার (২৫) রেশমি আক্তার (২৪) স্বপ্না বেগম (৪৫) নাসরিন বেগমসহ (৬৮) অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন।
এজহারপত্রে জানা যায়, পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগ বন্টনসহ পারিবরিক বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাসুদ রানার পরিবারের সাথে অভিযুক্তদের বিরোধ চলছিল। এবং মারধর ও খুন করার হুমকী দিয়ে আসছিল তারা। এরপর গত ২৭জুন মাসুদ রানা ঢাকায় চাকুরীর পরীক্ষা দিয়ে বাড়ী ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দুপুর ৩টার দিকে সদর উপজেলার মাছুরী এলাকায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান বিল্টুর বাড়ীর সামনে পৌছামাত্রই অভিযুক্তরা তার বহণের হ্যালোবাইকের গতিরোধ করে। এরপর লোহার রড, হাতুড়ী, কাঠ-বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং অভিযুক্তদের কাছে থাকা বিষ মাসুদ রানার মুখে ঢেলে দেয়। পরে তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা চলে যায়। তারপর মাসুদ রানার পরিবার খবর পেয়ে জরুরী সেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছালে পুলিশের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় পরে তাকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগী মাসুদ রানা জানান, বাবার রেখে যাওয়ার সম্পত্তির জন্য আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। এর আগে একাধিকবার আমাকে বিভিন্ন সময়ে হুকমি ধামকি দিয়েছে। এ বিষয়ে আগেও থানায় জিডি করে করেছিলাম। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি।
আহত মাসুদ রানার মা হাজেরা বেগম বলেন, আমার ছেলের উপর হামলাকারীদের সঠিক বিচার চাই। মনে হচ্ছে জমির জন্য আমার ছেলেকে মরতে হবে। ওর বাবা মারা যাওয়ার পর অনেক দুঃখকষ্টে ওরে মানুষ করছি। ওর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আমাদের উপর তারা নির্যাতন করতেছে। দেশের পুলিশ আদালত থাকতে, মায়ের সামনে ছেলেকে মরতে দেখতে হবে না কি।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মোঃ মনির হোসেন বলেন, এবিষয়ে গত মঙ্গলবার সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার পর আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।




