শিরোনাম

মানিকগঞ্জে এমবিবিএস পাশ না করে ২৫ বছর ধরে ডাক্তার সেজে প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিনিধি : ভাড়া থাকেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা ভাটবাউর গ্রামে। পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি তার তিন বছর বয়সি ছেলে খুবই অসুস্থ্য। দ্রুত ছুটে ভাটবাউর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে (ময়না ফার্মেসিতে) সেখানকার চিকিৎসক ডা: নাজিমুদ্দিন কয়েকটি ওষুধ ধরিয়ে দেন তাকে। বাড়ি এসে তার
স্ত্রী ছেলেকে ওষুধ খাওয়ানোর সময় দেখেন ওই ডাক্তারের ফার্মেসি থেকে দেয়া সব ওষুধই মেয়াদোত্তীর্ণ। সচেতন কাঠমিস্ত্রি শুক্রবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে মোবাইলে অভিযোগ করে বসেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালকের কাছে।
অভিযোগের সুত্র ধরে জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌসের নির্দেশে শনিবার সকালে ভাটবাউর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে (ময়না ফর্মেসীতে) অভিযান চালান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
অভিযানে গিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল দেখেন ওষুধের দোকানের আলমারিতে ধরে ধরে সাজানো অধিকাংশ ওষুধই মেয়াদোত্তীর্ণ। পরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ ৫১ ধারা অনুযায়ি ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সেই সাথে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ২৭ এর(২) ধারা অনুসারে ভাটবাউর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে (ময়না ফার্মেসিতে) ওষুধের দোকানটি সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ওই সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, বিএমডিসির সনদ ছাড়া কেউ ডাক্তার লেখতে পারবেন না। এধরনের সরকারি আইন থাকলেও তা উপেক্ষা করে মেট্রিক পাশ করা নাজিমুদ্দিন বনে যান ডাক্তার। ডাক্তার পদবী ব্যবহার করে নাজিম উদ্দিন তিনি দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন ২৫ বছর ধরে।
ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযানের সময় দোকানটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষুধ এর ছড়াছড়ি দেখতে পাওয়া যায়। ফার্মেসীর প্রায় অধিকাংশ ঔষধ এর মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৯ সালের পূর্বেই। এমনকি ডিসপ্লেতে ২০১৮,২০১৭,২০১৬, ২০১২, ২০১০ ও ২০০৭ সালের বিপুল সংখ্যক মেয়াদোত্তীর্ণ
ঔষধ পাওয়া যায়।
এদিকে অতিরিক্ত দামে ডাল বিক্রির অপরাধে সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম বাজারের ২ প্রতিষ্ঠানকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে সহযোগিতা করেন সাটুরিয়া উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নিলুফার ইয়াসমিন ঝর্ণা ও আনসার ব্যাটেলিয়ানের সদস্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button