মানিকগঞ্জে আলোচিত কলেজ ছাত্র মনির হত্যার চার্জসীট আদালতে দাখিল

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জে আলোচিত কলেজ ছাত্র মনির হোসেন হত্যা কান্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসীট দাখিল করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচার বেগম ইয়াসমিন আরা চার্জসীট আমলে নিয়ে মামলার কার্যক্রম শুরু করা নির্দেশ দেন । একই সাথে মনির হত্যা মামলায় জামিনে থাকা অন্যতম আসামী শুকুর আলীর জামিন না মুঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. মতিয়ার রহমান বলেন, ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টম্বর শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের কুয়েত প্রবাসী পরোশ আলীর কলেজ পড়–য়া পুত্র মনির হোসেনকে জীবন্ত নদীতে নিক্ষেপ হত্যা করা হয়। হত্যা মামলার চার্জসীটের নথি গত ৭ জুন আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তা পর্যালচনার করার নির্দেশ দেন।
পর্যালোচনায় চার্জসীটের ওপর নিহত মনির হোসেনের মা মামলার বাদি মালেকা বেগমের কোন আপত্তি না থাকায় বৃহস্পতিবার আদালতে চার্জসীট গৃহীত হয়।
তিনি আরো বলেন,মনির হত্যা মামলায় মোট আট জনের বিরুদ্ধে চার্জসীট গঠন করা হয়েছিল। এর মধ্যে বর্তমানে ১জন (আক্তার হোসেন জামাল ওরাফে কামাল) জামিনে রয়েছে। বাকি ৭ জনের মধ্যে ৫ আসামী জেলা হাজতে থাকলেও দুই জন রয়েছে পলাতক। পলাতক দুই আসামী মো. মাসুদ ও মো. আলমের বিরুদ্ধে কোর্ট বৃহস্পতিবার গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে।
এছাড়া শুকুর আলী নামের একজনের জামিনের মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হলে পুনরায় স্থায়ী জামিন চাইলে কোর্ট তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলা হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন।
চার্জসীট ভুক্ত ৮ আসামীরা হলেন,মো. বাদশা মিয়া (৩২),মো. আক্তার হোসেন জামাল ওরফে কামাল(৩৬),মো. আজগর চৌধুরী (৩১),মো. শুকুর আলী (৪৫),মো. লাল মিয়া (৩৪),মো. আনোয়ার হোসেন (৩০),মো. মাসুদ (৩৫),মো. আলম (৬৫)।
নিহত মনির হোসেনের মা মালেকা বেগম জানান, যাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসীট দেয়া হয়েছে তারা সবাই মিলে তার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি আমার ছেলে হত্যাকারীদের সর্বচ্চ শাস্তি ফাসি চাই। যাতে আর কোন মা সন্তান হরা না হয়।
যেভাবে হত্যা করা হয় কলেজ ছাত্র মনিরকে
৯ সেপ্টম্বর ২০১৫। মানিকগঞ্জ খান বাহাদুর আওলাদ হোসের কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্র মনির হোসেন শহরের উত্তর সেওতা এলাকায় একটি বাড়ির মেসে ভাড়া থেকে লেখা পড়া করতেন। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার বিকালে মনিরের গ্রামের এলাকার বাদশা মিয়া নামের এক ব্যাক্তি সেনাবাহীতে চাকুরীর কথা বলে মনিরকে কৌশলে সাভার নিয়ে যায়। এর পর বাদশার সাথে যোগ হয় মো. আক্তার হোসেন জামাল ওরফে কামাল, মো. আজগর চৌধুরী , মো. শুকুর আলী, মো. লাল মিয়া, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. মাসুদ ও মো. আলম। তাদের সবার উদ্দেশ্য ছিল মনিরকে হত্যা করবে এবং তার পরিবারের কাছে মুক্তিপন দাবিও করবে। সাভার নিয়েই ওই দিন রাতেই পুর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সকলে মিলে মনিরের হাত-পা, চোখ-মুখ ও মাজা দড়ি দিয়ে বেধে একটি নৌকায় উঠায়। পরে রানা প্লাজার ধ্বংস স্তুপের পাথর দিয়ে মনিরকে দড়ির সঙ্গে বাধা হয়। এর পর মোবাইলে মনিরের মায়ের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে হত্যাকারীরা। রেকর্ড করা হয় মনিরের কথাও। ফোনে মনিরকে নির্যাতনের আওয়াজ শোনার পর মনিরের মা টাকা দিতে রাজি হলেও ততক্ষনে সর্বনাশ হয়ে যায়। রাতের কোন এক সময় নৌকায় করে সাভারের নামা বাজার থেকে হেমায়েতপুর-সিংগাইর সড়কের শহীদ রফিক সেতুর কাছে নিয়ে জীবন্ত নদীতে নিক্ষেপ করে মনিরকে হত্যা করা হয়। হত্যা নিশ্চিত করার পরও মনিরের মায়ের কাছে মুক্তিপনের টাকা চাইতে থাকে হত্যাকারীরা। পরে মানিকগঞ্জ ও সাভার থানার পুলিশের যৌথ অপারেশন এবং মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রথমে গ্রেফতার করা হয় ঘটনার মুল নায়ক বাদশা মিয়াকে। এর পর পর্যায়ক্রমে আরো ৫জনসহ মোট ৬জনকে আটক করা হয়। পলাতক রয়েছে আরো দুইজন। আটককৃতরা ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবান বন্দীতে মনির হত্যা কান্ডের কথা স্বীকার করে।



