শিরোনাম

মানিকগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক তারা মিঞা আর নেই

নিজস্ব প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের প্রবীণতম সাংবাদিক এম এ ওয়াহেদ তারা মিঞা মারা গেছেন। রবিবার বিকেল ৪টায় মানিকগঞ্জ জেলা শহরের পূর্ব দাশড়ায় তাঁর বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, চার মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বাদ মাগরিব মানিকগঞ্জ দরবার শরীফে প্রথম জানাজা ও মরহুমের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-নালোড়া গ্রামের মসজিদ প্রাঙ্গনে বাদ এশা দ্বিতীয় জানাজা শেষে গ্রামের কবরাস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
তাঁর মৃত্যুতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ বিসিবির পরিচালক এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন, মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, যুগ্ম সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেল, মানিকগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আফসার উদ্দিন সরকার, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম ছারোয়ার ছানু, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চক্রবর্তী, মানিকগঞ্জ সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদের সভাপতি সুরুয খান, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক জানিয়েছেন।
এম এ ওয়াহেদ তারা মিঞা ১৯৫৮ সাল থেকে সাংবাদিকতা শুরু করেন। দৈনিক সংবাদ, মর্নিং নিউজ এবং পাকিস্তান বাই উইকলি পত্রিকায় কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান সাংবাদিক সমিতি মানিকগঞ্জ মহকুমা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সমাজ উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত বেতিলা হাই স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। স্কুলটিতে পরবর্তীতে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
তিনি ২০০২ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জাতীয় যক্ষা নিরোধ কমিটি মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। যক্ষা নিয়ন্ত্রণে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে জাতীয়ভাবে ২০১২ সালে ‘আজীবন সেবা স্বীকৃতি সম্মাননা’ প্রদান করা হয়।
এছাড়া, তিনি মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চেয়ারম্যান, মানিকগঞ্জ জেলা কেন্দ্রীয় বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি, মানিকগঞ্জ ইউসিডি প্রজেক্ট কাউন্সলের পরিচালক, মানিকগঞ্জ নাগরিক কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি, শহর সমাজ সেবা প্রকল্প সমন্বয় পরিষদের প্রচার ও গনসংযোগ প্রযোজক, বেতিলা পল্লী সেবক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও মানিকগঞ্জ রোগী কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ন পদে দায়িত্বপালনের মধ্য দিয়ে সমাজ উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখে গেছেন।
১৯৪০ সালের ১৮ জুলাই মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-নালোরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৮ সালে মানিকগঞ্জ ভিক্টোরিয়া স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৬০ সালে মানিকগঞ্জ সরকারী দেবেন্দ্র কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button