বিবিধশিরোনাম

মানবাধিকার সমুন্নত রেখে নিরাপত্তা ইস্যু মোকাবেলায় সম্মত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র

মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সমুন্নত রেখে পারস্পরিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো মোকাবেলায় গভীরতর ও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র।
রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সংলাপে দুই দেশ এ ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করে। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামরুল আহসান।
মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন রাজনৈতিক-সামরিক সংক্রান্ত ব্যুরোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-সহকারী সচিব উইলিয়াম মোনাহেম।
দিনব্যাপী সংলাপ শেষে দেয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশ নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব, কৌশলগত অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বেসামরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী, সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গিবাদ দমনের বিস্তৃত ইস্যুতে আলোচনা করেছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আইএসের মত সহিংস চরমপন্থী গ্রুপগুলো থেকে অভিন্ন ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়েছে, যা বিশ্বের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও নিজ দেশের ভূমি অন্য দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে ব্যবহার করতে না দেয়ার সরকারের নীতিকে সাধুবাদ জানায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি আক্রমণের পর সংশ্লিষ্ট সব এজেন্সির সমন্বয়ে সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে সন্ত্রাস ও আন্ত:দেশীয় অপরাধ দমন (সিটিটিসি) ইউনিট গঠনের প্রশংসা করেছে। জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী কার্যক্রম ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত বিশ্ব শান্তি উদ্যোগগুলোতে বাংলাদেশের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানায় যুক্তরাষ্ট্র।
দুর্যোগ মোকাবেলা ও প্রস্তুতিতে সক্ষমতা বাড়ানো, উপকূলীয় এলাকায় ৬০০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জন্য দ্রুতগামী নৌযান সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া সহায়তা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশ।
সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গিবাদ দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী কার্যক্রমের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরো প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি ও লজিস্টিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।
নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্তের মাধ্যমে সংলাপ শেষ হয়।
এতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী সংলাপ আগামী বছর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button