ভুয়া কাবিননামায় কলেজ ছাত্রীকে প্রায় দুই বছর যাবত ধর্ষণ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ: বিয়ের ভুয়া কাগজ দেখিয়ে তানিশা আক্তার আয়না নামের এক কলেজ ছাত্রীকে প্রায় দুই বছর যারত ধর্ষন করে আসছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের মুন্সীরচর দক্ষিণপাড়া গ্রামে শওকত হোসেনের পুত্র রাকিবুল হাসান টিটু (৩০)।
গত শনিবার দুপুর থেকে বিয়ের দাবি নিয়ে লম্পট প্রেমিক টিটুর বাড়ীতে বিষের বোতল নিয়ে অবস্থান করছে প্রেমিকা তানিশা।বিয়ে করার ভয়ে বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে গেছে লম্পট প্রেমিক টিটু ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা।
অনশন করা মেয়েটি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বারাহিরচড় গ্রামের আব্দুর রহমান এর মেয়ে তানিশা আক্তার আয়না (২১). সিংগাইর সরকারি কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,জেলার সাটুরিয়া উপজেলার মুন্সীরচর দক্ষিণপাড়া গ্রামে বিয়ের দাবিতে লম্পট প্রেমিকের বাড়িতে বিষের বোতল নিয়ে আ-মরণ অনশন করছেন কলেজে পড়ুয়া ছাত্রী তানিশা। মেয়েটিকে মারধর করে বের করে দেবার চেষ্টা করেছে টিটু ও তার পরিবারের সদস্যরা।পরে ভাড়া করা নামধারী ছাত্রলীগের কিছু নেতা কর্মীরা তানিশাকে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় ভিতি দেখিয়ে বাড়ী থেকে নামানোর চেষ্টা করে।গ্রামের মানুষ নামধারী ছাত্রলীগের নেতা কর্মীর উপর উত্তেজিত হয়ে গেলে তারা পালিয়ে যায়।গ্রামবাসীর সহাতায় সে বর্তমানে প্রেমিকের চাচার বাড়িতে অবস্থান করছে।ঘটনার পর থেকেই প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায় নি।তার বাড়িতে তালা ঝুলছে।
তানিশার বাবা আব্দুর রহমান বলেন,আমার মেয়ের সাথে প্রায় দুই বছর যাবত টিটুর সর্ম্পক।গত শনিবার ঘটনাটি জানার পরই ছেলের বাড়িতে আমার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ চান্দু দারগা,আমার শ্যালকসহ ছেলেকে পাঠিয়েছিলাম।স্থানীয় চেয়ারম্যান তার ব্যাক্তিগত কাজে ঢাকা অবস্থান করছেন।তিনি ফিরে আসলে হয়তো এর সুষ্ট বিচার আমার মেয়ে পাবে।
প্রেমিক টিটুর বোন শাহনাজ বেগম বলেন,আমার ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক আছে কিনা জানি না।তবে মেয়েটি আমাদের বাড়িতে আসার পর ওকে কয়েকটি প্রশ্ন করলে উত্তর না পেয়ে আমি শুধু একটি থাপ্পর দিয়েছি।
প্রেমিক টিটুর চাচা মুনছের আলী বলেন, আমার কাছে মেয়েটিকে রেখেছি।মেয়ে পক্ষের অভিভাবক শনিবার ও রোববার সন্ধায় আসছিল।আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেব আসলে দুই পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিবে।
নাম প্রকাশে অনিছুক রকিবুল হাসান টিটুর একাধিক বন্ধুরা বলেন,টিটু স্কুল জীবন থেকেই মেয়েদের সাথে এ রকম কাজ করে।আমরা বন্ধুরা অনেক বুঝিয়েছি তাতে কোন লাভ হয়নি।তানিশাকে নিয়ে এদিক ওদিক যেত সেটা আমরা জানতাম।গত কয়েক মাস আগেও ওরা দুই জন কক্সবাজার ও টেকনাফ ঘুরতে গিয়েছিলো।
এ বিষয়ে রকিবুল হাসান টিটুরর সাথে মোঠ ফোনে যোগাযোগ করলে তার ব্যক্তিগত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তানিসা আক্তার আয়না জানান, প্রথম দিকে টিটুর সাথে আমার পরিচয় হয় মোবাইল ফোনে।কিছু দিন পর আমরা সাটুরিয়ার নাহার গার্ডেনে ঘুরতে যাই।এরপর আমাদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক আরো গভীর হতে থাকে।এক পর্যায়ে টিটু সাথে আমি দৈহিক সর্ম্পকে জরিয়ে পরি।টিটু আমায় র্কোটে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে।বিয়ের পর আমরা কক্সবাজার ও টেকনাফ ঘুরে আসি।তিনি আরো বলেন,গত কয়েকদিন ধরে টিটুকে বলছি তোমাদের বাড়ী যাবো এ কথা বললে সে আমার সাথে রাগারাগি করে।পরে আমি বলি এভাবে আর কত দিন চলবে।সে আমায় জানায় কত দিন কি? আমি কি তোমাকে বিয়ে করছি নাকি।কোর্টের যে কাগজ দেখছো তা তো আমার বানানো কাগজপত্র।পওে কোন উপায় অন্ত না পেয়ে গত শনিবার আনমানিক দুপুর ২টার দিকে টিটুর বাড়িতে এসে উঠি।বাড়িতে আসার পর টিটুর বোন ও মা আমাকে মেরে ফেলে দিবে।ওর বোন শাহনাজ বেগম আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।পরে গ্রামের মানুষ আমাকে টিটুর চাচা মুনছের আলীর বাড়িতে রেখে যায়।
এ বিষয়ে বালিয়াটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন জানান,আমি ঘটনাটি লোক মুলে শুনতে পেরেছি।আমি ঢাকায় থাকার কারনে বিস্তারিত বলতে পারছি না এখন।




