
পতাকা ডেস্ক: আমার বাংলাদেশ পার্টির নেতারা বলেছেন ভাষা আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহান একুশে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উদযাপন উপলক্ষে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। আলোচনা সভা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।
সভায় এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে যেভাবে এদেশের মানুষ ফুসে উঠেছিল, জীবন দিয়ে অধিকার আদায় করেছিলো সেই আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আজও দেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফ্যাসীবাদ বিরোধী আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। এসময় নেতৃবৃন্দ বাংলা ভাষার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষায় সরকারের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁরা বাংলা একাডেমির দলীয়করণ ও বিতর্কিত ভুমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে বানান বিতর্ক, ভাষাগত বিকৃতি নিয়ে বাংলা একাডেমির তীব্র নিন্দা জানান বক্তারা। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম আহবায়ক ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে এবি পার্টির শিল্পীবৃন্দ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলা একাডেমি একটা বইমেলার আয়োজন করে মাসব্যাপী সেখানে কতটুকু বাংলা চর্চা হচ্ছে তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। সেখানে ভিন্নমতের বা সরকার বিরোধী মতের লেখক বা বই মেলায় স্থান পায়না। আমরা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গভীর দুঃখের সাথে বলতে চাই, যে লক্ষ্য নিয়ে তাঁরা জীবন দিয়েছিলেন আজ বাহাত্তর বছর পর এসেও তা বাস্তব রুপ পায়নি। দেশের জ্ঞান চর্চার স্বার্থে যে সমস্ত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন ছিলো তা হয়নি। সেই লক্ষ্য পূরণেই এবি পার্টি এমন একটি রাষ্ট্র বিনির্মান করতে চায় যেখানে বাংলায় জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় কোন বাধা থাকবেনা।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, মাতৃভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য যে আন্দোলন হলো, আমাদের ভাইয়েরা জীবন দিলো অথচ ভারত উপমহাদেশে থেকে প্রায় আড়াইশত ভাষা হারিয়ে গেছে। শুধু মাত্র একটি দিনকে উদযাপন বা শহীদ মিনারে লৌকিক ফুল দিয়েই ভাষার মর্যাদা রক্ষা পাবেনা। শিক্ষাক্ষেত্রে, কর্মক্ষেত্রে ভাষায় সঠিক ব্যবহার ব্যাতিরেকে ভাষা টিকে থাকেনা। যার ফল আমাদের নতুন প্রজন্ম যারা সঠিকভাবে বাংলা কিংবা অন্য কোন ভাষা কোনটাই তারা শিখতে পারছেনা।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, যুবপার্টির আহবায়ক এবিএম খালিদ হাসান, সহকারী সদস্যসচিব শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সদস্যসচিব সফিউল বাসার, মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সেলিম খান, দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, মহানগর উত্তরের যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুর রব জামিল, ছাত্রপক্ষের আহবায়ক মোহাম্মদ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুনা হোসাইন সহ সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।




