উপমহাদেশশিরোনাম

ভারতে উর্দি পরেই বাজারে ভিক্ষা করছে পুলিশ!

ভারতে এখন মন্দার বাজার। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এই দেশটিতে আর্থিক দুরাবস্থার জেরে চাকরি হারাচ্ছেন বহু মানুষ। বাদ যাচ্ছেন না সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করার পর মাত্র একদিনের নোটিশেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হচ্ছে বহু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। অবস্থা যেন আরও খারাপ হচ্ছে দিনের পর দিন।
সম্প্রতি ভারতের উত্তরপ্রদেশে বহু হোম গার্ডকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বাজেটে টাকার খুব অভাব। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত হোম গার্ডদের ডিউটি কমানো হবে। আর পাশাপাশি এই কারণেই প্রচুর হোমগার্ডদেরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। সরকারের এই নির্দেশ হোমগার্ডদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরের পক্ষ থেকে।
ইতোমধ্যে প্রচুর সংখ্যক হোম গার্ডদের চাকরি থেকে সরানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন আরও অনেকে। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির এই বাজারে চাকরি চলে গেলে সংসার চলবে কী করে! নতুন চাকরি জুটবেই বা কী করে! এসব ভেবেই হয়রান হচ্ছিলেন হোম গার্ডরা। এদিকে সরকারের নির্দেশ। কিছুই করার নেই। তবে প্রতিবাদ তো হতেই পারে। সরকারের এমন নিষ্ঠুর ফরমানের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানালেন হোম গার্ডরা।
নিজেদের উর্দি পরেই বাটি হাতে নিয়ে মানুষের ভিড় বাজারে ভিক্ষা করলেন হোম গার্ডরা। এমন করুণ ছবি দেখে পথচলতি সাধারণ মানুষের অনেকেরই চোখ ভিজল। উর্দি পরে হাতে বাটি নিয়ে দোকানে দোকানে গিয়ে ভিক্ষা চাইলেন একদল হোম গার্ড। তাদের এমন অবস্থায় দেখে প্রথমে পথচলতি মানুষ ব্যাপারটা বুঝতে পারেননি। কিন্তু পরে হোমগার্ডরা বলেন, তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাই এখন ভিক্ষা করা ছাড়া তাদের কাছে আর কোনও রাস্তা খোলা নেই।
পথে চলাচলরত মানুষের সিংহভাগ সরকারের এমন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। হোমগার্ডদের কাছ থেকে পুরো ঘটনা জানার পর প্রায় প্রত্যেকেই তাদের প্রতি সমবেদনা জানান। চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর একদল হোমগার্ড প্রথমে অবস্থান ধর্মঘট করে বিক্ষোভ করেছিলেন। কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয়নি। এর পরই তারা এমন অভিনব প্রতিবাদের কথা ভাবেন।
একজন হোমগার্ড এদিন বলেছেন, সরকার এভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে আমাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। সংসার কী করে চলবে বুঝতে পারছি না। এত বছর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। তার এমন প্রতিদান! সূত্র : জি নিউজ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button