Uncategorized

ভাই ভাতিজাদের অত্যাচারে প্রতিবেশীর বাড়ীতে আশ্রয় নেওয়া সৈয়দ বাহার উদ্দিন’র সংবাদ সম্মেলন

ফেনী প্রতিনিধি : নিজ ভাই ভাতিজা ও ভাবির জুলুম অত্যাচারে দিশেহারা হয়ে প্রতিকারের আশায় ২৯ জানুয়ারী শুক্রবার সকালে সোনাগাজী রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন- প্রতিবেশির বাড়ীতে আশ্রয় নেওয়া সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের আহম্মদপুর গ্রামের মরহুম শেখ বদিউল আলমের ছেলে সৈয়দ বাহার উদ্দিন। এসময় তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে কখনো খোলা আকাশের নিচে কখনো প্রতিবেশীর বাড়ীতে মানবেতর জীবন যাপনের করুন পরিস্থিতি বর্ণানা করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সু-দীর্ঘ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, এসময় তিনি বলেন : আমার ভাই শেখ কামাল উদ্দিনের জীবদ্দশায় যৌথ পরিবারে থাকাকালে পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগবন্টনের আগেই যৌথ খরচে পাকাঘর নির্মানের সিদ্ধান্ত হলে আমি তখন সম্পত্তি বন্টনের অনুরোধ করি। আমরা তিন ভাই আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই যে- নির্মিতব্য পাকা ঘরটি যৌথ মালিকানায় যৌথ খরচে নির্মান হবে এবং নির্মান শেষে তিন ভাই সমান হিস্যায় মালিক থেকে বসবাস করবো।
পাকা ঘরটি নির্মানের জন্য পরিবারের কর্তা বড়ভাই শেখ কামাল উদ্দিনের হাতে তখন নগদ তিন লক্ষ সত্তর হাজার টাকা দিয়েছিলাম। যৌথ খরচে নির্মিত উক্ত ঘরে বেশ কয়েক বছর বসবাস করার পরে আমি চাকুরীর সূত্রে স্ব-পরিবারে ঢাকা চলে যাই, এবং দীর্ঘ বছর ঢাকাতে থাকি। এর মধ্যে আমার বড়ভাই শেখ কামাল উদ্দিন মারা গেছেন। আমি দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকার সুযোগ নিয়ে বড় ভাইয়ের স্ত্রী দেল আফরোজ বেগম, ভাতিজা শামিম ফেরদৌস ফরহাদ ও ভাতিজা সাইদুর রহমান সোহাগ এবং আমার মেঝ ভাই শেখ সালাহ উদ্দিন সেলিম সহ যোগসাজস করে আমাকে আমার মালীকী ঘর থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে আরো অনেকের মত আমিও চাকুরী হারিয়ে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ীতে ফিরে আসলে তারা আমাকে আমার ঘরে প্রবেশে বে-আইনি ভাবে বাধা দিতে থাকে, তারা ভাডাটিয়া লোকজন দিয়ে আমাকে একাধিক বার শারিরীক ভাবে আঘাত করার চেষ্টা করে।
গত ২২জানুয়ারি শুক্রবার তারা অন্যায় ভাবে দোতলা নির্মান কাজ শুরু করলে তখন আমি নিরুপায় হৃযে বাধা প্রদান করি, এসময় আমার উল্লেখিত ভাই ভাবী ভাতিজারা আমি ও আমার স্ত্রী সন্তানদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। স্থানীয় ভাবে বিষয়টির সমাধান করার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হওয়ায় এবং ব্যাপক শান্তি ভঙ্গের আশংকা থাকায় আইনগত প্রতিকার চেয়ে গত ২৬জানুয়ারি মঙ্গলবার সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, আইনের আশ্রয় নেওয়ার কারনে তারা এখন আরো ভয়ংকর বেপরোয়া আচরণ শুরু করে। যেকোন সময় আমি বা আমার স্ত্রী সন্তানদের খুন-জখম করা হতে পারে এমন আশংকায় প্রাণ রক্ষার জন্য নিজের মালিকী বাড়ী ঘর ফেলে প্রতিবেশীর ঘরে আশ্রয় নিয়েছি। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সৈয়দ বাহার উদ্দিন বলেন, আমার নিজ মালিকীয় বাসস্থানে বসবাসের সুযোগ ও ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে আমি ফেনীর সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, সোনাগাজীর সাংসদ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, আমিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির সহ পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button