ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পাঁচ মিনিটের ভাষণে জাতিকে যা বললেন

সারদিন ধরে ব্রিটিশরা অপেক্ষা করছিলো কি বলবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস? লকডাউন করে দেবেন? খুব ছোট্ট করে সম্ভবত ৬ মিনিটের একটি বক্তব্য দিয়েছেন জাতির উদ্দেশে| তার সরকার এবং নিজেরা কি করছেন, এসব নিয়ে কিছু বলেন নি, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেন নি, এমনকি সামনের দিনগুলোতে কি করবেন, এসব নিয়ে কিছুই বলেন নি! কারণ প্রতি মুহূর্তে এসব তারা স্পষ্টতই জানিয়েছেন, নতুনভাবে বলার কিছু নেই| তাছাড়া এই দেশে মুখ দিয়ে কিছু বলা মানে তা ‘ইমপ্লিমেন্ট’/ ‘বাস্তবায়ন’ হতেই হবে! অতএব যা বলবে, তা কেবল বলার জন্য বলার কোন সুযোগ নেই!
কেবল যে জায়গাটায় গুরুত্ব দিয়েছেন তা হল, জনগণের উদ্দেশে ‘ইন্সট্রাকশন’ /নির্দেশনা দিয়েছেন! বলে হচ্ছে, জাতির উদ্দেশে ‘টাফ’ বা ‘কঠিন’ নির্দেশনা দিয়েছেন| “ন্যাশনাল ইমারজেন্সি’ ঘোষণা করেছেন!
-পয়েন্ট ধরে যদি বলি, ঘরে থাকতে বলেছেন, খুব প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের হলে পুলিশ বিষয়টি দেখবে, এবং প্রয়োজনে কেস ফাইল করবে, সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন|
– সরাসরি সিটিজেনকে বলেছেন, “যদি তোমার বন্ধু বলে দেখা করতে তোমার বলা উচিত, না” !
-কোনরকম সামাজিক অনুষ্ঠান বা আয়োজন করা যাবেনা, এমনকি পার্ক, জিমনেশিয়াম, লাইব্রেরি, চার্চগুলো বন্ধ থাকবে|
-খাবার ও ঔষধ ছাড়া অন্যান্য ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়’ এসব দোকান বন্ধ থাকবে|
-চাকুরীর প্রয়োজনে যদি খুব জরুরী হয়, তবেই যেতে নয়তো ঘর হতে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন|
-যেহেতু পশ্চিমাদের নিত্যদিনের অভ্যাস হচ্ছে (আমাদের খাবার খাওয়ার মতো বলা যায়) বাইরে ব্যায়াম বা দৌড়াতে বের হওয়া, তাই দিনে একবার বের হতে পারবে কিন্তু এককভাবে| দুজনের বেশী একত্রিত হওয়া যাবেনা কোথাও! দুজনের বেশী একত্র হওয়াকে ইংল্যান্ডে ‘ব্যান’/ ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারি করা হয়েছে|
এই কয়টা লাইন বলেছেন কিন্তু সকল ব্রিটিশরা (সকলে অবশ্যই নয়, কিন্তু ৯৫ -৯৯%) কাল থেকে তার এই পয়েন্টগুলোকে ‘আইন’ হিসেবে মানবে! (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়




