ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাটের স্বস্তিদায়ক হার নির্ধারণ করা হবে : অর্থমন্ত্রী

অবশেষে ভ্যাটের হার কমানোর ইঙ্গিত দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট আইনে একটি ‘স্বস্তিদায়ক হার’ নির্ধারণ করা হবে।
আজ বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ‘ভ্যাট অনলাইন মোবাইল হেল্প ডেস্ক’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান।
তবে ভ্যাটের নতুন হার কী হবে, সে বিষয়ে কিছু বলতে চাননি অর্থমন্ত্রী। তিনি শুধু বলেছেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত বাজেট বক্তৃতায় থাকবে।
এর আগে অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, চলতি ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বিক্রির উপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নেয়া হবে।
১৫ শতাংশ ভ্যাটে ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানিয়ে এলেও অর্থমন্ত্রী তার অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়ে আসছিলেন।
এনিয়ে গত ৩০ এপ্রিল এক সভায় অর্থমন্ত্রীর সাথে ব্যবসায়ী নেতাদের তুমুল তর্কাতর্কিও হয়।
অর্থমন্ত্রী অটল থাকলেও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের কথায় ভ্যাট নিয়ে সরকারের নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ভ্যাটের হার কত কমানোর হতে পারে- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে শুনবেন। এর আগে বলব কেন?
ব্যবসায়ীরা ভ্যাটের হার তিন থেকে পাঁচ শতাংশ রাখার কথা বলছে- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছুটা ক্ষেপে গিয়ে বলেন, ‘রাবিশ। মাই ওনলি কমেন্ট ওন দিস প্রোপোজাল ইজ রাবিশ।’
ভ্যাট হার ‘কমফোর্টেবল’ করার চিন্তা আপনি করছেন বলে খবর আসছে- এক সাংবাদিকের এই প্রশ্নের অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, দ্যাটস অলরাইট। সেটাই যথেষ্ট। তবে হার কত হবে বলতে পারব না। সেটা বাজেটে বলব।’
নতুন ভ্যাট আইন সংশোধন হচ্ছে কি না- এ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, সংশোধন বলতে পারেন। বিকজ আই এম অলরেডি সেইড, ভ্যাট হার স্বস্তিকর অবস্থায় নেয়ার চেষ্টা করা হবে।
ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠন পণ্য বিক্রির উপর ভ্যাটের হার ৫-১০ শতাংশের মধ্যে রাখার দাবি জানিয়ে আসছে।
ভ্যাটের হার কমানোর যুক্তিতে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, যারা পণ্য কিনে বিক্রি করেন, সেখানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে, মুদ্রাস্ফীতি হবে। আবার তা দিতে আগ্রহী হবে না ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে এনবিআর যুক্তি দেখাচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণ এখনও ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিচ্ছে। আদায় করা সেই কর যেন ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন, তা নিশ্চিত ও সহজ করবে নতুন আইন।
এখন ব্যবসায়ীরা বিক্রির অনুপাতে ভ্যাট দিচ্ছেন না, যা নতুন আইনে দিতে হবে। এখন তারা বার্ষিক নির্দিষ্ট একটি অঙ্ক ভ্যাট হিসেবে দিচ্ছেন। নতুন আইনে ভ্যাটের হিসাব বের করা ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের জন্য দুস্কর হবে বলেও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী ফিতা কেটে ‘ভ্যাট অনলাইন মোবাইল হেল্প ডেস্ক’ (এনবিআর কর্মচারিদের বহনকারী বাস) উদ্বোধন করেন। একই সাথে এনবিআরের গেটে নির্মিত ভ্যাট অনলাইন হেল্প ডেস্কের উদ্বোধন করা হয়। ব্যবসায়ীদের ভ্যাট নিবন্ধনে উৎসাহ দিতে এনবিআর চারটি বাসে এই ভ্রাম্যমাণ ‘ভ্যাট অনলাইন মোবাইল হেল্প ডেস্ক’ স্থাপন করেছে।
এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, এসব বাস প্রতিদিন ঢাকার বিভিন্ন বিপণি বিতানের সামনে যাবে। বাসে ঢাকার ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনের জন্য ল্যাপটপসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে প্রস্তুত থাকবেন। পরে ঢাকায় আরো তিনটি এবং চট্টগ্রামে দু’টি এরকম বাস নামানো হবে।




