বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কথিত ‘সর্বহারা পার্টির’ সদস্য পরিচয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৫ জন কলেজ শিক্ষককে মুঠোফোনে ফোন করে চাঁদা দাবি করেছে। চাঁদার টাকা না দিলে শিক্ষকদের নির্মম পরিণতি ভোগ সহ হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ওই ৫ শিক্ষকের পক্ষে বোয়ালমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক পরেশ কুমার পাল (৫৭)সহ একই কলেজের আরও চার শিক্ষক।
টাকার দাবিতে হুমকি পাওয়া অপর চার শিক্ষক হলেন, দেবাশীষ রায়, নিলয় কুমার সাহা, সজল কান্তি বিশ্বাস ও প্রদীপ কুমার সাহা।
সাধারণ ডায়েরিতে পরেশ কুমার পাল বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে কলেজে অবস্থানকালে তার মুঠোফোনে গ্রামিণ ০১৩৩৫৭৫১৭৬৯ নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনদাতা নিজেকে ‘গৌতম বিশ্বাস’ পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তিনি ‘সর্বহারা পার্টির’ বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য। একপর্যায়ে তাকে হত্যার হুমকি দেন ওই ব্যক্তি।
পরেশ কুমার পাল বলেন, ফোনদাতা আমাদের ৭-৮ জন কলেজ শিক্ষকের কাছে আলাদা তিনটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে টাকা দাবি করে বলেন, তাদের কয়েকজন সহকর্মী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং তাদেরকে ছাড়াতে বিপুল পরিমাণ অর্থ দরকার। এজন্য অন্তত ২৫ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রত্যেক শিক্ষককে পাঠাতে বলেন। এ টাকা না পাঠালে একেক শিক্ষককে একেক ধরনের খারাপ পরিণতির জন্য অপেক্ষা করতে বলেন।
সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ রায় বলেন, তাকে ফোন করে লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তার ছেলের পায়ে গুলি লাগলে যেভাবে টাকা সংগ্রহ করে চিকিৎসা করবেন, সেভাবে টাকা সংগ্রহ করে পাঠাতে নির্দেশ দেন।
সহযোগী অধ্যাপক নিলয় কুমার সাহা বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে আমাদের আটজন হিন্দু সহকর্মীকে সমজাতীয় হুমকি দেওয়া হয়। আমরা এ ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
তিনি বলেন, আমাদের সাবেক সহকর্মী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবীন লস্কর ইতোমধ্যে একটি বিকাশ নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন ওই ব্যাক্তিকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক একজন শিক্ষক জানান, টাকা না পাঠালে তাদেরকে রংপুরের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষক পরিবারের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার মতো নির্মম পরিণতির জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়।
প্রসঙ্গত জিডিতে ৫ জন শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি কথা বলা হলেও পরবর্তীতে সব মিলিয়ে মোট ৮ জন সংখ্যালঘু শিক্ষককে একই জাতীয় হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান শনিবার বলেন, ওই নাম্বারগুলোর সিডিয়ার আনা হয়েছে। নাম্বারগুলোর লোকেশন দেখাচ্ছে মাদারীপুরের রাজর। তবে এটা একটি প্রতারক চক্র।
তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। খুব তাড়াতাড়ি প্রতারকদের আইনের আওতায় আনা হবে।