sliderস্থানিয়

বোয়ালমারীতে পাওনা টাকা চাওয়ায় জীবন নাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে বোয়ালমারী নিউ মার্কেটের হাবিব বস্ত্রালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. মাসুদুর রহমান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর আগে ইট ভাটার মালিক আহসানুল কবির হেলালের সাথে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মোট ৩০ লাখ টাকার অগ্রিম ইট কেনা হয়। এর বিপরীতে তিনি ৯ লাখ ৯১ হাজার টাকার ইট সরবরাহ করেন। পরে অবশিষ্ট ইট সরবরাহ করতে না পেরে প্রায় দুই বছর আগে নগদ ৫ লাখ টাকা ফেরত দেন। বর্তমানে তার কাছে ১৫ লাখ ৯ হাজার টাকা অথবা সমমূল্যের ইট পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মাসুদুর রহমান জানান, পাওনা আদায়ের বিষয়ে তিনি এর আগেই বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে থানায় সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আহসানুল কবির হেলাল পাওনা পরিশোধের দাবি করলেও তার পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও আহসানুল কবির দেখা করা এড়িয়ে যান এবং একপর্যায়ে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, গত ৪ জুলাই নিউ মার্কেট এলাকায় আহসানুল কবির হেলালকে পেয়ে পাওনা টাকার বিষয়ে কথা বলতে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আহসানুল কবির টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তিনি তার স্ত্রীকে ফোনে ডেকে আনেন। পরে তার স্ত্রী স-মিলের কয়েকজন কর্মচারীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাকে হুমকি দেন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। এ সময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে তার প্রতিষ্ঠানের ক্যাশে থাকা প্রায় ৭ লাখ টাকা লুট হয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।

মাসুদুর রহমানের অভিযোগ, ওই পক্ষই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করলেও তখন মারধর, আটকে রাখা বা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পায়নি। পরে থানায় দেওয়া অভিযোগে মিথ্যা তথ্য সংযোজন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের প্রতি উভয় পক্ষের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশের অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, এর আগে ব্যবসায়ী আহসানুল কবির সংবাদ সম্মেলন করে মো. মাসুদুর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তাকে মারধর, জোরপূর্বক আটকে রাখা এবং একটি কোর্ট ফাইল থেকে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button