sliderস্থানিয়

বোয়ালমারীতে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর মিলল ব্যবসায়ীর লাশ, থানায় হত্যা মামলা

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের মাঝকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের বনচাকী-রামচন্দ্রপুর এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় মিলেছে। নিহত ব্যক্তি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গোয়ালমারী ইউনিয়নের উত্তরটিলি গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে ইব্রাহিম (৩৪)। তিনি ঢাকায় ডাব ও বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের ছোট ভাই ফরহাদ বাদি হয়ে রবিবার দিবাগত রাতে অজ্ঞাত আসামী করে বোয়ালমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নাম্বার ২৫।

পুলিশ ও পরিবার সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ইব্রাহিম তার চাচাতো ভাই ও একই গ্রামের পিকআপ চালক মো. হোসেনের গাড়ি ভাড়া করে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া এলাকায় একটি হোটেলে তারা খাওয়ার জন্য থামেন। খাবার শেষে বিল পরিশোধ করতে গেলে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি এসে ইব্রাহিম ও হোসেনকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেয়। গাড়িতে তোলার পর তাদের হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। কিছুক্ষণ পর তারা পিকআপ চালক হোসেনকে মারধর করে রাস্তার পাশে ফেলে যায়, কিন্তু ইব্রাহিমকে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে চলে যায়।ভোরে নামাজে যাওয়ার পথে স্থানীয়রা আহত হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সুস্থ হয়ে সে ঢাকায় গিয়ে ইব্রাহিমের পরিবারকে ঘটনা জানায়।

পিকআপ চালক মো. হোসেন বলেন, আমি ও ইব্রাহিম ভাই একই গ্রামের বাসিন্দা। সে সম্পর্কে আমার চাচাতো ভাই। আমাকে নিয়ে তিনি ডাব ও কাঁচামাল কিনতে গোপালগঞ্জে উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথেমধ্যে ভাটিয়াপাড়া এলাকার একটি হোটেলে বসে আমরা খাবার খাই। কিছু লোক ডিবি পোশাক পড়ে আমাদের ছবি তুলে নেয়। এরপর হোটেল থেকে বের হলেই আমাদের তারা প্রাইভেটকারে উঠিয়ে হাত পা বেঁধে ফেলে। পরে আমাকে বেদম মারপিট করে। রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। এসময় ইব্রাহিমকে প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যায়। ভোরে লোকজন নামাজ পড়তে বের হলে, আমাকে দেখে তারা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে আমি পিকআপ নিয়ে ঢাকায় গিয়ে ইব্রাহিমের বাড়িতে খোঁজ দেই।

নিহতের ভাই ফরহাদ মোল্যা বলেন, “আমার বড় ভাই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ডাব ও কাঁচামাল সংগ্রহ করে ঢাকায় বিক্রি করতেন। ডিবি পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বিচার চাই। যারা আমার ভাইকে মেরে রাস্তার পাশে ফেলে গেছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি চাই। যেন আর কোনো ভাই, বাবা, স্বামী বা ছেলে এমনভাবে মারা না যায়।” তিনি আরও বলেন, যে হোটেলে তারা খাবার খেয়ে ছিলেন সেই হোটেলের সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করলে অপরাধীদের সনাক্ত করতে সহজ হবে।”

বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল বলেন, শনিবার বিকেলে মরদেহ উদ্ধার করে রোববার ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুরে পাঠানো হয়েছে। নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা হত্যা মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। ইব্রাহিম হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের শনাক্তে তদন্তে পুলিশ কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মাঝকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর ব্রিজ এলাকায় মহাসড়কের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button