খেলাশিরোনাম

বায়ার্নের যে কৌশল ধরতে পারেননি নেইমাররা

কিমিচ শট নেয়ার সময় পিএসজির বক্সে বায়ার্নের আক্রমণভাগের চারজন, যারা অ্যাটাকিং থার্ডের যেকোনো পজিশনে মানিয়ে নিতে পারেন।
কঠিন ম্যাচ, ‘সিম্পল’ ফুটবল, বহুল আলোচিত আর পরিচিত কৌশল। লিসবনে রবিবার রাতে ঠিক এভাবে নেইমারের পিএসজিকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ষষ্ট শিরোপা জিতল বায়ার্ন মিউনিখ। টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে তারাই প্রথম দল, যারা এক আসরে শতভাগ ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হল।
প্রথমার্ধে কোনো দলই এদিন নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এ ‘দায়’ মূলত বায়ার্ন কোচেরই! অবাক হলেন?
নাহ, হ্যানসি ফ্লিকের ভুলের কথা বলছি না। বলছি তার এমন কৌশলের কথা, যা দিয়ে টমাস টুখেলকে প্রথম ৪৫ মিনিট বিভ্রান্ত করেছেন, পরের অংশে ‘নাকানিচুবানি’।
ফুটবলের মৌলিক জ্ঞানের সঙ্গে অল্প একটু যোগাযোগ থাকলে এই মৌসুমে বায়ার্নের হাইলাইন ডিফেন্স অর্থাৎ অনেক উপরে উঠে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলানোর কৌশল আপনার চোখে পড়ার কথা। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তুমুল আলোচনা হয়েছে।
রক্ষণভাগ উপরে থাকলে গোলরক্ষকের সামনে অনেক ফাঁকা জায়গা পড়ে থাকে। বায়ার্ন সেখানে প্রায় ৪০ গজ ফাঁকা রেখে মৌসুমটা কাটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ দলে নেইমার কিংবা এমবাপে নামের কেউ থাকলে এই ফাঁকা জায়গা কতটা বিপদ ডেকে আনতে পারে, তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
মাঝমাঠের উপর থেকে নেইমারের ডিপে বল তুলে দেওয়ার প্রবণতা সর্বজনবিদিত। সেই ডিপ পজিশনে আবার এমবাপে, যার গতিতে প্রায়ই ‘প্রহরীরা’ দিশেহারা হন।
এসব ভেবে বায়ার্নের অনেকেই ফ্লিকের ৪-২-৩-১ ফর্মেশন নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন। প্রথমার্ধ দেখে বোঝা গেছে শঙ্কায় ছিলেন ফ্লিক নিজেও। আর তাই কিছুটা দোটানা নিয়ে ডিফেন্সের চারজনকে খুব একটা উপরে তোলেননি। যার কারণে পিএসজি ম্যাচের হালচাল ধরতে পারেনি। এই অর্ধে দুই দলই তালগোল পাকিয়ে গোল মিসের মহড়ায় নামে।
পিএসজি ম্যাচটা ছেড়েছে এখানেই। প্রথমার্ধের কৌশলকে তারা দ্বিতীয়ার্ধের ‘পরিণতি’ ভেবে নেয়। কিন্তু ফ্লিক দ্বিতীয়ার্ধে ঠিকই ঝাঁকুনিটা দেন। নিজের পছন্দের কৌশলে ভরসা রেখে প্রেসিং আর ‘সিম্পল’ ফুটবলে নজর দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button