slider

বালাতৈড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ বালাতৈড় উচ্চ বিদ্যালয়, নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বালাতেড় গ্রামের একটি ঐতিহ্যবাগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়টির সুখ্যাতি থাকলেও বর্তমানে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ। অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোপনে নয়টি গাছের আম গোপনে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে সোমবার বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গেলে এ প্রতিবেদকের নিকট অভিযোগকারী ও অভিযুক্তরা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য প্রদান করেন।

অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সামসুন্নাহার বলেন বলেন, গাছের আম কেউ বিক্রি করেনি। ছাত্রছাত্রীরা খেয়ে নিয়েছে। বাকী গাছের আম মঙ্গলবার ৬ জুন প্রকাশ্যে লীজ এর মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের কোন সমস্যা নেই। আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি। এতদিনে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হয়ে যেত। কিন্ত শিক্ষক প্রতিনিধির দুইজন শিক্ষক হাই কোর্টে রিট করা তা বন্ধ রয়েছে। ঐ দুই শিক্ষক প্রতিনিধিকে সভায় রেজিষ্ট্রি চিঠি, মোবাইলে ম্যাসেজ দিলেও উপস্থিত হনা না। নোটীশ খাতায় কোন স্বাক্ষর করেন না। অথচ বলে বেড়ায় তাদের না জানিয়ে গোপনে আমরা সভা করি। তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুজ্জামান বলেন, আমরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও সভায় ডাকা হয় না। যখন ক্লাস চলে তখন আমরা ক্লাস রুমে। সভাপতি নির্দিষ্ট সময়ে না এস পরে গোপনে এসে আমাদের না ডেকে সভা করে চলে যান। এসএসসি পরীক্ষার ব্যবহারিক খাতার জন্য শিক্ষার্থী প্রতি ২শ টাকা করে আদায় করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ বেআইনী। বিদ্যালয় চত্ত্বরের মধ্যে নয়টি আম গাছে আম সম্পূর্ণ বিদ্যালয়ের পিয়নগত শনিবারে বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন সময়ে পড়ে নেয়। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে কিনে নিয়েছি।

বিদ্যালয়ের আরেক সহকারী শিক্ষক শাহরিয়ার (ফটিক) বলেন, সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অর্থ আত্মসাৎ, পরিচালনা পর্ষদ গঠনসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত। গাছের আম গোপনে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করে, এসএসসি পরীক্ষার ব্যবহারিক খাতার নাম করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২শ টাকা করে আদায় করে অর্থ আত্মসাৎ করে, বিনা রশিদে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অর্থ আদায় করে সে অর্থ আত্মসাৎ করে। পরিচালনা পর্ষদের সভা আমাদেরকে না জানিয়ে গোপনে সারে। মোট কথা এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির কারণে বিদ্যালয়ের অবস্থা হ-য-ব-র-ল। শিক্ষা মান দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পড়া লেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তাদের উপস্থিতি দিন দিন অনেক কমে যাচ্ছে। বিষয়গুলো নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ নিয়ে গেলেও তোন সমাধান হয়নি। আমি অবিলম্বে বিদ্যালয়ের পড়া-লিখার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য শক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

অত্র বিদ্যালয়ের শরীর চর্চা শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অনুমতিতেই ব্যবহারিকের জন্য টাকা তোলা হয়েছে। শিক্ষার্থী প্রতি ২শ টাকা সিদ্ধান্ত হলেও কেউ কেউ ১শ টাকা আবার কেউ কেউ কোন টাকায় দেয়নি।

অত্র বিদ্যালয়ে সভাপতি, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাহাদুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, বিদ্যালয়ের ভালো করার জন্য যা যা করা দরকার আমরা তাই করছি। কিন্তু ঐ দুই শিক্ষক প্রতিনিধি বিদ্যালয়টি ধ্বংশ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। যাতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিতে না পারি তাই হাই কোর্টে রিট করে এসেছে। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দিয়ে বিদ্যালয়টিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। মিটিং করার জন্য পিয়ন নোটীশ খাতা নিয়ে গেলে তারা স্বাক্ষর করেন না। উল্টো বলে বেড়ান তাদের না জানিয়ে মিটিং করি। তাই যাতে অস্বীকার করতে না পারে আমরা রেজিষ্ট্রি করে মিটিং এর নোটীশ তাদের দেই। তারপরেও তার মিটিং এ আসে না। আসলে তারা কি চায়? বিদ্যালয়ের ভালো না ক্ষতি? এটাই এখন আমার কাছে বড় প্রশ্ন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button