আমির হোসেন, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাট বাজারে প্রশাসনের অভিযানকে কেন্দ্র করে দোকানপাট বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বাজারের ফার্মেসিগুলোর কার্যক্রম ও ওষুধ বিক্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের অভিযান চলাকালে দোকান বন্ধ রাখার অভিযোগের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং বাজারের ওষুধের দোকানগুলোতে নিয়মিত তদারকির দাবি উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত কিংবা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে বাজারের কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। তবে কোন অভিযানে কতটি ফার্মেসি বন্ধ ছিল এবং কী কারণে সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে প্রশাসনের অভিযানের সময় ফার্মেসি বন্ধ রাখার অভিযোগ ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোতে বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স রয়েছে কি না, মেয়াদোত্তীর্ণ কিংবা অননুমোদিত ওষুধ মজুত বা বিক্রি করা হচ্ছে কি না এবং ওষুধ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন মানা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
এর আগেও বাদাঘাট বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর বাজারের ওষুধ, মুদি ও কসমেটিকসসহ পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ২১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর বাদাঘাট বাজারের চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও মূল্যতালিকাসংক্রান্ত অনিয়মের কারণে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সর্বশেষ পাওয়া প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর বাদাঘাট বাজারে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একটি দোকানে অননুমোদিত খাদ্যপণ্য, মসলা, আয়ুর্বেদিক পণ্যসহ ক্ষতিকর সামগ্রী মজুত ও বিক্রির অপরাধে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে এসব পুরোনো অভিযানের তথ্য দিয়ে বর্তমানে বাজারের সব ফার্মেসিতে অনিয়ম হচ্ছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ জন্য প্রয়োজন সরেজমিন পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।
সচেতন মহলের মতে, ওষুধ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ, নকল কিংবা অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির সুযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী ফার্মেসিগুলো যেন অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
এ অবস্থায় বাদাঘাট বাজারের সব ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স, ওষুধের মেয়াদ, সংরক্ষণব্যবস্থা এবং অনুমোদিত পণ্য বিক্রির বিষয়গুলো যাচাই করতে উপজেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সমন্বিত অভিযান পরিচালনার দাবি উঠেছে।
পাশাপাশি প্রশাসনের অভিযানের সময় কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে কি না, তা অনুসন্ধান করে প্রকৃত কারণ প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।