মো.শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা, দায়িত্বে অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বরিশাল সদর উপজেলার ৯৯ নম্বর বগুড়া নথুল্লাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুসরাত শরমিন।
গত ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেওয়া ওই আবেদনে অভিযোগকারী দাবি করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ঠিকাদারদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কাজের বিল অনুমোদন, নিম্নমানের কাজের সঙ্গে সমঝোতা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলার মতো কর্মকান্ডে জড়িত। এ ছাড়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে নির্যাতন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আবেদনে অভিযোগকারী দাবি করেন, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে তাঁর কাছে অডিও রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ, মে ও জুলাই মাসের কয়েকটি কথোপকথনের রেকর্ডের উল্লেখ করে তিনি সেগুলো তদন্ত করে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের সময় অবহেলা করেন এবং ব্যক্তিগত কাজে সময় ব্যয় করেন। এ ছাড়া নিজের স্ত্রী ও দুটি কন্যা সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন করে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অন্য নারীদের নিয়ে সরকারি বাংলো ও বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় অনিয়মিতভাবে যাতায়াত, নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করে প্রতারণার অভিযোগও তোলা হয়েছে অভিযোগপত্রে। এসব অভিযোগের পক্ষে চিকিৎসার নথি, তালাক সংক্রান্ত কাগজপত্র, মামলার আপসনামা, অডিও রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
আবেদনে অভিযোগকারী আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতেও দাপ্তরিক অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে তাঁর দাবি অনুযায়ী, কার্যকর বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনিয়মের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী আবেদনে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল মামুন জানান,“এ বিষয়ে এখন আমি কিছু বলতে চাই না।” এই বলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন নলছিটি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন।
নলছিটি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী নুরুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।”