বাংলাদেশে হকির ‘রক্তাক্ত’ চ্যাম্পিয়নশিপ: গোলের বন্যা, নাকি সুনামি?

জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে যা ঘটছে, তাকে বলা হচ্ছে গোল বন্যা। তবে অনেকের কাছে এটি গোলের সুনামি।
আর বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) চীফ হকি কোচ মোঃ কাওসার আলী একে বর্ণনা করলেন রক্তাক্ত ঘটনা হিসেবে।
ঘরোয়া হকিতে রেকর্ড গড়ে কয়েকদিন আগে নৌবাহিনীর হকি দল ৩১ গোল দিয়েছিল গাজীপুরের পোস্টে। এরপর নড়াইলকে ৪৩ গোলের বন্যায় আবার ভাসিয়ে দিয়ে নতুন রেকর্ড করেছে সেই নৌবাহিনীর দল।
আরেকটি ম্যাচে খুলনার পোস্টে ২৭ গোল দিয়েছে বিমানবাহিনী। বিপক্ষের দলগুলো কোন গোলেই দেখা পায়নি।
আর মেহেরপুরের বিপক্ষে গাজীপুরের জয়ের ব্যবধান ৬-১ গোলে।
বিকেএসপির হকির চীফ কোচ মোঃ কাওসার আলী অনেকটা ব্যাঙ্গ করেই বললেন, ”এটা তো খুশির খবর, সবাই আমরা খুশিতে উন্মাদ হয়ে যাচ্ছি।”
একটি হকি টুর্নামেন্টের ম্যাচে এরকম গোল হওয়া কতটা স্বাভাবিক ঘটনা? জানতে চাইলে মি. আলী বলছেন, ”হকি খেলায় যদি দুই দলে মানের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকে অর্থাৎ একটি কম রেটেড হয়, তাহলে এরকম গোল হবে।”
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ”একটা দল দুর্বল, আর আরেকটা শক্তিশালী হলেই এতগুলো গোল হবে। যদিও ফুটবলে এমনটা হবে না।”
তিনি বলছেন, ”যে দলগুলো এসেছে, তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশের ঠিকমত প্রশিক্ষণ নেই, তারা কৃত্রিম টার্ফে কখনো খেলেনি। বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের এ ধরণের টুর্নামেন্টে খেলারও কোন অভিজ্ঞতা নেই।”
”অন্য দলগুলোর যে পারফর্মেন্স, তাতে এত ঘাটতি রয়ে গেছে যে এটা দেখে আমার মনে হয় এটা হচ্ছে রক্তাক্ত হকি”, বলছেন শীর্ষ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই কোচ।
হকি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলা পর্যায়ের দলগুলোকে আনার আগে আরো বাছাই আর প্রশিক্ষণ দরকার ছিলছবির কপিরাইটBHF FACEBOOK PAGE

হকি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলা পর্যায়ের দলগুলোকে আনার আগে আরো বাছাই আর প্রশিক্ষণ দরকার ছিল
তাঁর পরামর্শ, এই দলগুলোকে আগে বাছাই করে, বিভাগীয় পর্যায়ে খেলে সেখান থেকে ভালো দলটিকে প্রতিযোগিতায় নিয়ে আসা উচিত ছিল।
কাওসার আলী বলেন, ”দল সংখ্যা ৩২টি এখন – সেটি হয়তো খুশির খবর। কিন্তু দুঃখের খবর হলো এখন যা ঘটছে, তাই – ৪৩ গোল, ৪০ গোল।”
”একটি দল তিন খেলায় শত গোল পূর্ণ করলো, আমার মনে হয় হয়তো গিনেস রেকর্ড এটা। তবে এটা আমাদের জন্য মোটেই আনন্দের খবর না”, বলছেন মি. আলী।
ঢাকার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে হকির এই টুর্নামেন্টটি হচ্ছে। সেখানে রয়েছে সিনথেটিক টার্ফ, যা এই গোল বন্যারও অন্যতম একটি কারণ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।
কাওসার আলী বলছেন, ”বাংলাদেশে এরকম মাঠ মাত্র দুইটি রয়েছে। ফলে জেলা থেকে আসা বেশিরভাগ হকি খেলোয়াড় এরকম মাঠ দেখেননি, খেলা তো দূরের কথা। সব মিলিয়ে একেকটি দলে হয়তো দুই চারজন ভালো খেলোয়াড় রয়েছে, কিন্তু মাত্র কয়েক জনকে দিয়ে দল সামলানো যায় না।”
প্রতিযোগিতায় এতো গোলের কারণে তিনি নিজেও শঙ্কিত বলে জানান এই হকি কোচ।
তিনি বলেন, ”মানুষজন যেভাবে আমাদের টিটকারি করছে, হকি খেলাটাকে তারা যেভাবে চিন্তা করেছিল, সেখান থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এটা আমার কাছে একটা বেশ কষ্টদায়ক ব্যাপার।” সুত্র: বিবিসি




