Uncategorized

বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার স্ট্যাণ্ড রিলিজ

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে জালিয়াতির অভিযোগে ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদারকে স্ট্যাণ্ড রিলিজ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্যের নির্দেশে তাকে স্ট্যাণ্ড রিলিজ করে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জানা যায়- চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের শালবাড়ি এলাকার খিয়ারপাড়ার গোলাম মোস্তফার ছেলে কৃষক ময়নুল হকের মাটি বোঝাই একটি ট্রাক্টর আটক
করে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ। ২৬ দিন পর ১১ মে বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার ওই কৃষককে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে আপনার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে। তাই জরিমানার অর্থ দিয়ে ট্রাক্টর নিয়ে যান। ওইদিনই ওই কৃষক ওসিকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ট্রাক্টরটি থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন। সেসময় তাকে জরিমানার অর্থ জমাদানের কোন রশিদ না দেয়ায় ওই কৃষকের সন্দেহ হয়। একারণে তিনি এসিল্যাণ্ড অফিসে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেন। সেখানে কৃষক ময়নুল জানতে পারেন তার জরিমানা করা তো দূরের কথা ওইদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতই পরিচালিত হয়নি।
এরই প্রেক্ষিতে গত ২২ অক্টোবর ওই কৃষক আইজিপি বরাবর বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। যার অনুলিপি প্রেরণ করা হয়
¯^রাষ্ট্রমন্ত্রী, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের যে মামলায় ময়নুল হকের কাছ থেকে ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার টাকা আদায় করেছেন সেই মামলায় আসলে ময়নুল হকের নাম নেই। ওই মামলায় অন্য এক ব্যক্তির নাম রয়েছে। এছাড়া তার জেলা ও উপজেলা পুরোপুরি ভিন্ন। একারণে বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- ওই কৃষকের কাছ থেকে টাকা নেয়ার পর ব্যাকডেটে ১০ মে বদরগঞ্জ থানার বদরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান একটি সাধারণ ডাইরী করেন(যার নম্বর- ৩৮২)। সেই ডাইরীতে তিনি উল্লেখ করেন- ‘জনৈক ময়নুল হক, পিতা মৃত গোলাম মোস্তফা, সাং- শালবাড়ি খিয়ারপাড়া, থানা-বদরগঞ্জ, জেলা-রংপুর এর আটককৃত বালুর ট্রাক্টরটি এসিল্যান্ড মহোদয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মামলা নং- ৫০, তারিখ- ১০ মে ২০২০ইং মূলে মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইনের ধারামতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে উক্ত জরিমানা আদায়ান্তে এসিল্যান্ড মহোদয় উক্ত ট্রাক্টরটি প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। বিষয়টি অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে ডাইরিভুক্ত করা হয়।’
এর সুত্র ধরে এসিল্যাণ্ড কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১০ মে তৎকালিণ এসিল্যাণ্ড শরিফুল আলম কোন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেননি। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের ৫০ নম্বর মামলাটি দায়ের হয়েছে ০১ মে। ওই মামলায় ভেজাল মধু বিক্রির দায়ে আব্দুস সালাম নামে এক ব্যক্তির দু’ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তার বাড়ি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের সিঙ্গেরগাড়ি এলাকায়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলেন, আমি চারদিনের ছুটিতে আছি। ছুটি শেষে এসব বিষয়ে কথা বলা যাবে।##

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button