
করোনা মোকাবিলায় ভারতে চলছে চতুর্থ দফা লকডাউন। এরপর আরও লকডাউন দেয়া হবে কী না এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। এর মধ্যে দেশটিতে করোনার সংক্রমণ কখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় এ নিয়েও নানা আশঙ্কা করছেন দেশটির বিশেষজ্ঞরা।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, জুলাইয়ের শুরুতে ভারতে করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ হবে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জুলাইয়ের শেষ থেকেই ভারতে করোনা সংক্রমণের হার কমতে থাকবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক রেটিং এজেন্সি স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরের মতে, সেপ্টেম্বরের আগে ভারতে করোনা সংক্রমণ শীর্ষে পৌঁছবে না।
এমন পরিস্থিতিতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সে (নিমহ্যান্স) এর গবষকেরা বলছেন, চতুর্থ দফা লকডাউন উঠে গেলেই ভারতে করোনা সংক্রমণ পুনরায় বাড়বে। সেইসঙ্গে গোষ্ঠী সংক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।
নিমহ্যান্সের ধারণা, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক করোনার শিকার হবে। বছর শেষে প্রাণঘাতী ভাইরাসে ৬৭ কোটি ভারতীয় আক্রান্ত হবেন।
তাদের মতে, এই ৬৭ কোটি ভারতীয়ের মধ্যে ৯০ শতাংশই জানতে পারবেন না তারা করোনা পজিটিভ। কারণ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সংক্রমণের বাহ্যিক কোনও লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যাবে না। মাত্র ৫ শতাংশের অবস্থা সংকটজনক হবে। তাদেরই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। হিসাব অনুযায়ী, ৬৭ কোটির ৫ শতাংশ যদি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন, তা হলেও সংখ্যাটা গিয়ে পৌঁছবে প্রায় তিন কোটিতে।
এই অবস্থায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও অপ্রতুল প্রস্তুতি নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষেদের চিকিৎসা ব্যবস্থা বলতে গেলে খুবই নাজুক। এত বেশি মানুষ আক্রান্ত হলে ভুক্তভোগী হবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এসব বাসিন্দারাই।




