
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় মডেল মৌনিতা খান ইশানাকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। প্রযোজক ও অভিনেতা মারুফ খান প্রেমের দায়ের করা মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালত গ্রহণ করে ইশানাকে অব্যাহতি দেন। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে মামলার বাদি প্রেম না-রাজি দিলেও সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মোঃ সামসুল আলম উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত বাদির না-রাজি আবেদন নাকচ করে ইশানাকে অব্যাহতি দেন। শুনানির সময় মডেল ইশানার ও মামলার বাদি প্রেম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ইশানা বোরকা পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। তার পাশে তার পিতাও ছিলেন।
ট্রাইবুন্যালের বিচারক তার আদেশে উল্লেখ করেছেন, মামলাটি আমলে গ্রহণের উপযুক্ত উপাদান বিদ্যমান না থাকায় না-রাজি আবেদন নামঞ্জুর করা হলো। পুলিশি রিপোর্ট গ্রহণ করে অভিযুক্তকে অব্যাহতি করা হলো। মামলা নথিভুক্ত করা হলো।
গত ৬ জুন ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মো.নাসির উদ্দিন সরকার। প্রতিবেদনে মামলাটি সঠিক আইনে করা হয়নি এবং আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিকে অব্যাহতি দানের প্রার্থনা করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
আদালত উক্ত প্রতিবেদন গ্রহণ বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দানের জন্য নথিটি ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইবুনালে প্রেরণ করেন।
ঈশানা গত ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে মহানগর হাকিম মো. মারুফ হোসেন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত শুনানি শেষে তাকে দশ হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন
এ মামলায় গত ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে ফৌজদারি বিবিধ মামলা নম্বর ১২৬৭৭/১৬ মোতাবেক জামিন পান এই অভিনেত্রী। পরে মডেল অভিনেত্রী ঈশানা তার আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।
একই ঘটনায় মামলার বাদি প্রযোজক অভিনেতা মারুফ খান প্রেম গত ৩ ফেব্রুয়ারি মৌনিতা খান ঈশানার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মানহানি মামলা ও গত ১ মার্চ উত্তরা পশ্চিম থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার আর্জিতে বাদি উল্লেখ করেন, শুটিং সেটে তার অনুপস্থিতে ঈশানা তাকে গালাগালি করেছেন। সাথে তার নিজস্ব ফেসবুকে একটি মানহানিকর স্ট্যাটাস পোস্ট করেন।যাতে বাদির সুনামহানি, সামাজিক ও আর্থিকভাবে এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে এ মামলা দায়ের করেন।
প্রযোজক অভিনেতা প্রেমের দায়ের করা মানহানির মামলায় গত ২২ মার্চ ঢাকার মহানগর হাকিম মেহের নিগার সূচনা এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রথম রানার আপ হয়েছিলেন মৌনিতা খান ঈশানা। নয়া দিগন্ত




