আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

‘পোয়াইন্দার বাপ ইঞ্জিনিয়ার আছিল’

স্বামীকে হারিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন রোহিঙ্গা নারী নূর আয়শা। পালিয়ে আসার পথে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তার স্বামীকে গুলি করে মেরে ফেলেছে। কক্সবাজারের একটি উদ্বাস্তু শিবিরে ত্রাণের লাইনে দাড়িয়ে বিবিসি বাংলার সাংবাদিককে এসব কথা জানিয়েছেন নূর আয়শা।
‘ছেলে মেয়ের বাবা কই’? এমন প্রশ্নে নূর আয়েশা চোখ মুছলেন। বললেন, ‘নাই’।
সদ্য স্বামী হারানোর ক্ষত আর চারটি শিশু সন্তান নিয়ে তিনি অজানা এক দেশে এসে ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়েছেন। হাতে বা্ংলাদেশের কর্তৃপক্ষের দেয়া একটি টোকেন।
এটি দেখালে ত্রাণসামগ্রীতে পূর্ণ একটি প্যাকেট তিনি পাবেন। তার ভিতরে কি থাকবে, তাও জানা নেই। মাত্র ৫ দিন আগে বা্ংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন। তার আগে ছদিন ধরে কখনো বাচ্চাদের নিয়ে হেঁটেছেন, কখনো জঙ্গলে, জলা কিংবা তৃণভূমিতে লুকিয়েছেন।
স্বামী কি করতেন? জবাবে তিনি বললেন, “আঁর পোয়াইন্দার বাপ ইঞ্জিনিয়ার আছিল।” মূলত নূর আয়েশার স্বামী একজন মেকানিক ছিলেন। মংডুতে কদিন আগেই নিজের কারখানা তৈরি করেন। কিন্তু সেটা আর চালু করা হয়নি তার।
এরই মধ্যে শুরু হয় সহিংসতা। শেষ পর্যন্ত তারা সেখানে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তারা রাখাইনের বেশীরভাগ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির তুলনায় একটু স্বচ্ছল ছিলেন। তাদের বাড়ি মংডুর রেকোয়াং গ্রামে। সেখানে বারোদিন আগে হঠাৎ করে সেনবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা এসে বাড়িঘরে আগুন দিতে শুরু করে আর এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। সেই গুলিতেই বিদ্ধ হয় নূর আয়েশার স্বামী।
তারপর স্বামী বাচলো কি মরলো দেখার সুযোগ হয়নি তার। বাচ্চাদের নিয়ে গিয়ে পাশের লামারপাড়া গ্রামের এক বাড়িতে লুকোন। সৈন্যরা সেখানেও পৌঁছে যায়।
নূর আয়েশা বলছিলেন, ‘সৈন্যরা আমাদেরকে বলে, তোমরা হয় বাংলাদেশে চলে যাও নয়তো তোমাদের মেরে ফেলবো’। তারপর শুরু হয় তাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার দীর্ঘ যাত্রা।
এরই কোন এক পর্যায়ে নূর আয়েশা জানতে পারেন তার স্বামী বেঁচে নেই। বাংলাদেশে পাঁচ দিন আগে এসে পৌঁছান তিন মেয়ে আর এক ছেলেকে নিয়ে। সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক। দুটি মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। তারা তার সঙ্গে নেই। তাদের খবরও নেই নূর আয়েশার কাছে।
একেবারে খালি হাতে এসে পৌছান টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে। সেখানে কেউ একজন তাকে কিছু টাকা দিয়েছিল। এই দিয়েই চলেছেন এতদিন। নূর আয়েশার আশ্রয় হয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালি আশ্রয়শিবিরে।
আজ শুক্রবার প্রথমবারের মত তিনি পেলেন সরকারি ত্রাণের টোকেন। এই টোকেনের মাধ্যমেই এখন লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ পাচ্ছেন। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে এই ত্রাণ কার্যক্রম। বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button