পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাসকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে সমর্থন ইইউ’র
ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ২৮ জাতির ইউরোপীয় ইউনিয়ন আশ্বস্ত করেছে যে, পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাসকে (জেরুসালেম) তারা ভবিষ্যত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে সমর্থন দেবে।
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সোমবার মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক বৈঠকে ইইউ জোটের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি এ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
এ সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে নাকচ করেন।
গত ৬ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
এ সম্পর্কে মোগেরিনি তার ভাষায় বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে এ নিশ্চিত প্রতিশ্রুতির বিষয়ে আবারো আশ্বস্ত করতে চাই যে, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি ইইউ’র সমর্থন রয়েছে এবং বায়তুল মুকাদ্দাস হবে দুই রাষ্ট্রের রাজধানী।’
ট্রাম্পের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে মোগেরিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের জ্ঞানের পরিচয় দেয়া উচিত এবং সেভাবে কাজ করা দরকার।
মার্কিন পরিকল্পনা মেনে নিতে মাহমুদ আব্বাসকে সৌদি যুবরাজের চাপ!
আমেরিকার কথিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা মেনে নিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান। গত ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেরুসালেমকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়ে কথিত শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এর পরই এক বৈঠকে সালমান এ চাপ সৃষ্টি করেন বলে ফিলিস্তিনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করার পর প্রেসিডেন্ট আব্বাস আমেরিকাকে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মানবেন না বলে ঘোষণা দেন। এরপর চলতি সপ্তাহে মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান।
ফিলিস্তিনের কর্মকর্তারা মিডল ইস্ট আই নিউজ পোর্টালকে জানিয়েছেন, বৈঠকে সৌদি যুবরাজ প্রেসিডেন্ট আব্বাসকে তার ভাষায় বলেছেন, ‘আমেরিকা হচ্ছে একমাত্র দেশ যার সত্যিকার প্রভাব রয়েছে ইসরাইলের ওপর; আমেরিকা হচ্ছে একমাত্র দেশ যে শান্তি প্রক্রিয়ার বিষয়ে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া কিংবা চীন কেউ পারবে না।’
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, মাহমুদ আব্বাসকে বোঝানোর ক্ষেত্রে সৌদি যুবরাজ ‘নরম কূটনৈতিক’ পন্থা অবলম্বন করেন। এসময় তিনি মার্কিন প্রস্তাব মেনে নেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট আব্বাসকে চাপ দেন। তবে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট সৌদি যুবরাজকে জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি ‘অর্থবহ’ শান্তিপ্রক্রিয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মাহমুদ আব্বাস সুস্পষ্ট করে বলেছেন, ‘১৯৬৭ সালের যুদ্ধের আগের সীমানাকে বিচেনায় নিয়ে এবং পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাসকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে মেনে নিয়ে যদি আমেরিকা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য কথা ঘোষণা করে তবে আমরা দ্রুতই সে আলোচনায় যোগ দেব কিন্তু তারা যদি আমাদেরকে শান্তি আলোচনার ইসরাইলি ভার্সনে নিয়ে যেতে চায় তাহলে আমরা তাতে যোগ দেব না।’




