পদ্মায় তীব্র স্রোত:ফেরি বিকল

পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটে দীর্ঘ যানজট
পদ্মায় তীব্র স্রোত ও ফেরি বিকল হয়ে পড়ায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে যানবাহন পারাপার ব্যহত হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে এই অবস্থার সৃষ্টি হলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তা চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়ায় যানবাহন পারাপরের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
পারাপারের অপেক্ষায় ক্রমান্বয়ে পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ফেরি সংযোগ সড়কের প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকা ট্রাক, বাস ও ছোট-বড়সহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের লাইন পড়েছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে এসব যানবাহনের সংখ্যাও।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে এসব যানবাহন ফেরি পার হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো হার যাত্রী। বিশেষ করে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরমে শিশু এবং বৃদ্ধরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জিল্লুর রহমান জানান, ঈদে এ নৌপথে ছোট-বড় ১৮টি ফেরি দিয়েই নির্বিঘেœ যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হয়েছে।
গত কয়েক দিনে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র স্রোত। এতে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি যাওয়ার সময় ধীরগতির কারণে প্রায় দেড়গুণ সময় বেশি লাগছে।
বিশেষ করে দৌলতদিয়া ঘাটের কাছে এই স্রোত বেশি রয়েছে। এই স্রোতে মাত্রাতিরিক্ত গতিতে ফেরি চালাতে হচ্ছে। এ কারণে গত ৩-৪ দিনে রো রো (বড়) চারটি, ইউটিলিটি (মাঝারি) একটি ও কে-টাইপ (ছোট) একটি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে।
এই ফেরিগুলো মেরামতের জন্য পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে আনা হয়েছে।বর্তমানে ছয়টি রো রো, চারটি ইউটিলিটি ও দুইটি কে-টাইপ ফেরি যানবাহন পারাপার করছে।
যেকোন সময় সচল ফেরির মধ্যে থেকে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবার বিকল ফেরি যানবাহন পারাপারেও যোগ দেয়ার জন্য দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে।এই অবস্থায় তীব্র স্রোতে সচল ফেরিগুলো দিয়ে যানবাহন পারাপার কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে উভয় পাড়ের ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ পড়েছে।
নদীতে স্রোত কমলে ও বিকল ফেরি মেরামত শেষে পারাপারে যোগ দিলেই যানবাহনের এই চাপ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন জিল্লুর রহমান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পাটুরিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, পাটুরিয়া পুরো টার্মিনাল জুড়ে ট্রাক পার্কিং করে রাখা হয়েছে। টার্মিনাল থেকে উথলী-পাটুরিয়া ফেরিসংযোগ সড়কে প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ সারিতে বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পারের অপেক্ষায় আটকে আছে।
অনেক যাত্রীই হেঁটে পাটুরিয়া ঘাটে যাচ্ছেন। অনেকেই বাস থেকে নেমে সড়কে দাঁড়িয়ে সময় কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার হকারদের কাছ থেকে পানীয়সহ নানা ধরনের খাদ্যদ্রব্য খাচ্ছেন।সুবর্নপরিবহনের যাত্রী আকমল বলেন, কয়েক ঘন্টা যাবত পাড়ের অপেক্ষায় আছি।
যশোরগামী গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাস চালক আতোয়ার রহমান জানান, সকালে ঘাট এসেছেন তিনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে এখন বাস নিয়ে টার্মিনাল পর্যন্ত আসতে পেরেছেন।
পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, ফেরি পারের অপেক্ষায় আটকে থাকা যানবাহন যাতে এলোমেলোভাবে রেখে যানজটর সৃষ্টি করলে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।এ কারণে যানজট নিরসনে যানবাহনগুলো সারিবদ্ধ করা হচ্ছে।
যাতে কেউ এই সারি ভেঙ্গে আগে ঢুকার চেষ্টা করতে না পারেন, সেজন্যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।আর সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বিকালে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।




