খেলা

‘পচা শামুকে’ পা কাটল ইংল্যান্ডের

ইংল্যান্ডকে ২০ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় জয় তুলে নিলো শ্রীলঙ্কা। টস জিতে আগে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কার দেয়া ২৩৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৭ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২১২ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড। দলের হয়ে বেন স্টোকস অপরাজিত (৮২) ও জো রুট করেন (৫৭) রান। দলের অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় কাজে আসেনি দুই অর্ধশতকও।
বিশ্বকাপের ২৭তম ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিং করে ইংল্যান্ডকে ২৩৩ রানের লক্ষ্য দেয় শ্রীলঙ্কা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৩২ রান সংগ্রহ লংকানরা। দলের হয়ে অপরাজিত সর্বোচ্চ (৮৫) রান করেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস।
শুক্রবার লিডসের হেডিংলিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় ম্যাচটি শুরু হয়।
ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে লংকানরা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শেষ বলে জোফরা আর্চারের দারুণ এক ডেলিভারিতে এক রানে করে বাটলারের তালবন্দী হয়ে ফেরেন ওপেনার ধিমুথ করুনারত্নে। দলীয় ৩ রানে তার আউটের পর স্কোরবোর্ডে কোনো রান না যোগ করে, ব্যক্তিগত দুই রান করে ফিরে যান আরেক ওপেনার কুশল পেরেরাও। ৩ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া শ্রীলঙ্কাকে খাদ থেকে তোলার চেষ্টা করেন ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নামা অভিক্ষা ফার্নান্দো ও কুশল মেন্ডিস। মেন্ডিস দেখে-শুনে খেলতে থাকলেও ফার্নান্দো খেলেন মারমুখী ভঙ্গিমায়। দরীয় ৬২ রানের মাথায় মার্ক উডের বলে আদিল রাশিদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৯ বলে ৬ চার ও ২ ছয়ে ৪৯ রান করে ফেরেন ফার্নান্দো। এরপর ৫ নাম্বারে পজিশনে ব্যাট করতে নামা অঞ্জেলো ম্যাথুস ইংলিশ বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ৭১ রানের জুটি গড়ে ১৩৩ রানের মাথায় আদিল রশিদের শিকার হয়ে ৪৬ রানে ফিরে যান কুশল মেন্ডিস। ব্যাট করতে নেমে কোনো রান যোগ না করেই ফেরেন জীবন মেন্ডিস। ১৩৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে অনেকটাই চাপে যায় লংকানরা। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে নিয়ে কিছুক্ষণ খেললেও ম্যাথুস রান তোলার ক্ষেত্রে ছিলেন একদমই কৃপণ। ২৯ রান করে দলের ১৯০ রানরে মাথায় আর্চারের বলে রুটের হাতে ধরা পড়ে ধনাঞ্জয়া ফিরে গেলে পরবর্তী আর কোনো ব্যাটসম্যান যেতে পারেননি দুই অঙ্কে ঘরে। শেষ পর্যন্ত ১১৫ বলে ৫ চার ও এক ছক্কায় ৮৫ রান করে অপরাজিত থাকেন ম্যাথুস। তার দায়িত্বশীল ইনিংসের কল্যাণে শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভার খেলে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৩২ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা।
ইংলিশ বোলারদের মধ্যে জোফরা আর্চার ও মার্ক উড ৩টি, আদিল রশিদ ২টি ও ক্রিস ওয়াকস একটি উইকেট শিকার করেন।
২৩৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারে দলীয় ১ রানের মাথায় ওপেনার জনি বায়েস্ট্রার গুরুত্বপূণ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ পেসার লাসিথ মালিঙ্গা দুর্দান্ত ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে বায়েস্ট্রাকে ফেরান ব্যক্তিগত শূন্য রানে। দলীয় ২৬ রানের মাথায় ইনিংসের সপ্তম ওভারের পঞ্ম বলে জেমস ভিন্সকে কুশল মেন্ডিসের তালুবন্দিতে ফেলে দ্বিতীয় শিকার তুলে নেন মালিঙ্গা। শুরুতে দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে ইংলিশরা। ওয়ানডাউনে নেমে রান-মেশিন জো রুট ও সর্বশেষ ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে ১৪৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলা সেই ইয়ন মরগান মিলে দলকে এগিয়ে নিতে দেখে-শুনে শর্ট রান তোলার দিকে মনোনিবেশ করেন ।কিন্তু দলীয় ৭৩ রানের মাথায় ইসুরু উদানার বলে তার হাতেই তালুবন্দী হয়ে ২১ রান করে ফিরে যান মরগান। ৭৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে আরো চাপে পড়ে ইংলিশরা। এবার ব্যাট করতে নেমে রুটের সঙ্গী হন বেন স্টোকস। দুজনে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে জুটিতে গড়েন ৫৪ রান। ১২৭ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট রুটের তুলে নিয়ে বিশ্বকাপে ৫০ উইকেট শিকার করেন মালিঙ্গা এবং দলকে ফেরান ম্যাচে। ৮৯ বলে ৩ চারে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন রুট। তার আউটের পর ক্রিজে আসা-যাওয়া শুরু হয় ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের। ১৪৪ রানের মাথায় মালিঙ্গার চতুর্ত শিকার হয়ে ১০ রান করে ফিরে যান বাটলার। দলের এমন বিপর্যয়ে ৫ নাম্বারে ব্যাট করতে নামা স্টোকসই ভরসার প্রতীক হয়ে থাকেন একমাত্র। দায়িত্ব নিয়ে খেলে তুলে ক্যারিয়ারের ১৮তম অর্ধশতক। তিনি মাঠে একা লড়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে নিয়ে ব্যাট করলেও, অন্যদিকে তাকে দাঁড়িয়ে থেকে দেখতে হয় অন্য ব্যাটসম্যানদের আশা-যাওয়ার করুণ চিত্র। মইন আলি ১৬, ক্রিস ওয়াকস ২, আদিল রশিদ ১ ও জোফরা আর্চার রানে ফিরে গেলে ইংরিশরা অনেকটাই ছিটকে পড়ে খেলা থেকে। শেষ উইকেটে তাদের প্রয়োজন পড়ে ৪৭ রান। কিন্তু উইকেট না থাকায় শেষ উইকেটে ঝুঁকি নিয়ে একপ্রান্তে বড় শর্ট খেলা শুরু করেন স্টোকস। দল যখন জয় থেকে ২২ রান দূরে ৪৭তম ওভারে নুয়ান প্রদীপের করা শেষ বলটি খেলতে পারেননি মার্ক উড। খুঁচিয়ে দিয়ে কুশল পেরেরার তালুবন্দী হয়ে দলকে দেন হারের স্বাদ। স্টোকস অপরাজিত থেকে যান ৮৯ বলে ৭ চার ও ৪ ছয়ে ৮২ রান করে।
লংকান বোলারদের মধ্যে লাসিথ মালিঙ্গা ৪টি, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ৩ট ইসুরু উদানা ২টি, ও নুয়ান প্রদীপ একটি উইকেট শিকার করেন।
১০ ওভারে এক মেডইনসহ ৪৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন লংকার পেসার লাসিথ মালিঙ্গা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button