slider

নেত্রকোণায় আজও অরক্ষিত বধ্যভূমি

মেহেদী হাসান আকন্দ, নেত্রকোণা: স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও অরক্ষিত ও অবহেলায় পড়ে আছে নেত্রকোণার অধিকাংশ বধ্যভূমি। এসবে নেয়া হয়নি রক্ষণাবেক্ষণের কোন উদ্যোগ। অরক্ষিত বধ্যভূমিগুলোতে নির্মাণ করা হয়নি কোন স্মৃতিফলক। একাত্তরের রক্তাক্ত স্মৃতি বিজড়িত বধ্যভূমিগুলো সরকার সংরক্ষণ না করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান খান খশরু বীর প্রতিক।
দৈনিক মুক্ত খবর পত্রিকার প্রতিনিধির সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান খান খশরু বীর প্রতিক বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গোটা জাতি যখন স্বাধীকার আন্দোলনের জন্য ঐক্যবদ্ধ ঠিক তখনই পাক হানাদার বাহিনী ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙ্গালীর ওপর হায়নার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁরা একের পর এক হত্যা হত্যা করে স্বাধীনতাকামী নিরীহ বাঙ্গালীদের। নেত্রকোণা জেলা শহরের মোক্তার পাড়া সেতু সংলগ্ন মগড়া নদীর তীর, সাতপাই সড়ক সংলগ্ন মগড়া নদীর তীর, চন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মগড়া নদীর তীর, সদর উপজেলার চল্লিশা রেল সেতু, নেত্রকোণা পূর্বধলা সড়কের ত্রিমহনী সেতু, পূর্বধলা উপজেলার পুকুরিয়কান্দা, জারিয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন কংস নদীর তীর, রাজপাড়া গ্রামের ডা. হেম বাগচির বাড়ি, দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি গ্রাম সংলগ্ন সোমেশ^রী নদীর তীর, গাওকান্দিয়া, কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর, রামপুর বাজার, কেন্দুয়া উপজেলার ঘোড়াইল, ধুপগাতি, সেনের বাজার ও কেন্দুয়া বাজার চিহ্নিত বধ্যভূমি।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে এলাকার রাজাকার ও আলবদরদের সহযোগীতায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নিরীহ মুক্তিকামী অসংখ্য বাঙ্গালিকে ধরে এনে নির্মমভাবে হত্যা করে এসব বধ্যভূমিতে ফেলে রাখতো। একাত্তরে অগণিত শহীদের রক্তে ভেজা বধ্যভূমি গুলো প্রশাসন ও স্থানীয় উদ্যোগে কিছু স্মৃতি স্তম্ভ তৈরি করা হলেও সংরক্ষণের অভাবে অধিকাংশই বধ্যভূমি স্মৃতিচিহ্ন হারিয়ে যেতে বসেছে। পরবর্তী প্রজন্মকে এদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানাতে বধ্যভূমি গুলোতে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ এবং সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করেন।
নেত্রকোণা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বধ্যভূমি গুলো সংরক্ষণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, জেলার বধ্যভূমি গুলো সংরক্ষণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতো:মধ্যে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি গ্রাম সংলগ্ন সোমেশ^রী নদীর তীরে বধ্যভূমি সংরক্ষণে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার সকল বধ্যভূমি সংরক্ষণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button