নেতাগিরি, শ্লোগান, ক্ষমতার আস্ফালন বন্ধ করতে হবে : ওবায়দুল কাদের

নাটোর প্রতিনিধি : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নেতাগিরি,শ্লোগান,ক্ষমতার আস্ফালন বন্ধ করতে হবে। কেননা ক্ষমতার আস্ফালন দেখিয়ে বিজয়ী হওয়া যায় না। জনগণ যাকে ভালোবাসে তার শ্লোগানের প্রয়োজন নাই। কাজ ভালো থাকলে শ্লোগানের প্রয়োজন হয় না।
এ সময় তিনি আরও বলেন,বিএনপি ক্ষমতার আস্ফালন করতো। এখনও তারা আস্ফালন করে। এখনও আ.লীগকে বিএনপি ভয় দেখাচ্ছে। কারণ তারা সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আঁতাত করে সহিংসতার রাজনীতি, আগুন সন্ত্রাস করতে চায়।তবে বিএনপিকে হুঁশিয়ার করে ওবায়দুল কাদের বলেন, শান্তির ভাষায় কথা বলুন। অশান্তি করতে চাইলে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি জবাব দেওয়া হবে।
তিনি আরোও বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের গর্ব নিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিজয় সুনিশ্চিত। চলতি বছরই দেশে অনেকগুলো মেগা প্রজেক্টের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে উন্নয়নের সুফল শীঘ্রই জনগণ পেতে শুরু করবে।
আজ রোববার (২০ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে শংকর গোবিন্দ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। সেতুমন্ত্রী বলেন, সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭৫ ভাগ মানুষ ভোট দিয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কিছু বিশৃঙ্খলা হয়েছে যা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার না হলে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়তো। অথচ যারা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কথা বলে তারা গত দুই দশকে এতো বেশি ভোটার উপস্থিতির নির্বাচন দেখাতে পারবেন না।
ওবায়দুল কাদের দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা দলের বিরুদ্ধে ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্য বিনষ্ট করে দলকে ছোট করেছেন, সরকারের উন্নয়নকে ¤¬ান করে ফেলেছেন, তাদের সবার তালিকা তৈরি হয়েছে। ¯পষ্ট করে বলতে চাই, এই তালিকার রেশ শেষ হবে না। সবাইকে তাদের কর্মফল ভোগ করবে।
বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক বলেন, বিএনপি চব্বিশ ঘন্টাই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে। নির্বাচন যতো সামনে আসে বিএনপি ততই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। আন্দোলন ও নির্বাচনে বিএনপি ফেল করেছে। নেতিবাচক রাজনীতির কারনে জনগনের সমর্থন হারিয়েছে বিএনপি। তারা নির্বাচনে বিজয়োল্লাস করতে না পেরে হতাশ হয়ে গেছে। আসলে বিএনপির রাজনীতি খাদে পড়েছে। বিএনপি চোরাগোপ্তা পথে ক্ষমতায় আসার খোয়াব দেখছে। অথচ বিএনপি বলতে পারবে না কোন উন্নয়নের জন্য জনগন তাদের ভোট দেবে। বিএনপি দেশের উন্নতির জন্য কিছু করেনি। তাদের দক্ষ অগ্নিসংযোগে, দুর্নীতি আর অপপ্রচারে। বিএনপি আওয়ামী লীগকে হুমকি দেয়। বড় বড় কথা বলে।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হলে বিএনপির লাফালাফি আর বেশিদিন থাকবে। আওয়ামী লীগ বিজয়ের তরীতে উঠলে বিএনপির লাফালাফি বন্ধ হয়ে যাবে ।
এর আগে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান।
সেতুমন্ত্রী বলেন, এক শ্রেনির সুবিধাবাদী, অনুপ্রবেশকারী দলীয় ভাবমুর্তিকে ক্ষুন্ন করে চলেছে। দলে ঘাপটি মেরে থাকা বিপথগামী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দলের এতো সুনাম সামান্য কিছু মানুষের জন্য ¤¬ান হতে দেয়া হবে না। দলের প্রতিটি কর্মীর আচরণ ভালো করতে হবে। আচরণ ভালো না হলে জনসমর্থন বাড়বে না। যারা চেয়ারে বসে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, ক্ষমতা ছাড়লে তারা বিপদে পড়ে যাবেন। দুঃসময়ের যারা দলকে বাঁচিয়ে রেখেছেন পাশে থেকে, তাদের দলে ফিরিয়ে আনতে হবে।
শনিবার নাটোরের দুই পক্ষের সহিংসতা প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, দুই স¤পাদক পদ প্রত্যাশীর অনুসারীদের সংঘর্ষ সম্মেলনের পরিবেশকে নষ্ট করেছে। কেন্দ্রিয় নেতাদের সামনে বিশৃঙ্খলার করে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে ছোট করা হয়েছে। এ নিয়ে দুজনকেই জবাবদিহি করতে হবে।নিজেদের সম্মেলনের মধ্যে বিশৃঙ্খলা হলে সে সম্মেলনের প্রয়োজন নেই। নিজেরা নিজেদের মধ্যে কলহ ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট করলে শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রা থেমে যাবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস এমপির সভাপতিত্বে ও সাধারণ স¤পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুলের সঞ্চালনায় সম্মেলনে অনান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক স¤পাদক এস এম কামাল হোসেন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক স¤পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহি কমিটির সদস্য বেগম আখতার জাহান, প্রফেসর মেরিনা জাহান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রতœা আহমেদ প্রমুখ।
সম্মেলনে সকল প্রকার বিশৃংখলা এড়াতে সম্মেলন স্থল ও বাহিরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।




