
মো.শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: ঝালকাঠিতে যুবলীগ নেতার হাতে যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে আহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে আহাতের স্ত্রী রিনা আক্তার বাদী হয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে ঝালকাঠি সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা ইউপি সদস্য হাসান মাঝিসহ আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
মামলাসূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ইউপি সদস্য হাসান মাঝি নির্বাচনকালীন সময়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। বিএনপির কর্মীদের সাথে ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণায় অংশ নিয়ে জামাতের দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান হাসান মাঝি। এতে ওই প্রচারণায় থাকা একই এলাকার হাকিম বেপারীর পুত্র যুবদল সদস্য খোকন বেপারী এর প্রতিবাদ করলে হাসান মাঝির সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এ ঘটনার ৃজের ধরে নির্বাচনের দুদিন পরে শনিবার সন্ধ্যায় পোনাবালিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের আবু সালেকের বাড়ির সামনে খোকন বেপারীর উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে হাসান মাঝি, রিয়াদ মৃধা, তানিম খলিফা, সাজ্জাদ মাঝি, কাওসার মাঝি ও ফেরদৌস মাঝি। এ সময় হাসান মাঝির চাকুর আঘাতে আহত হন খোকন বেপারী। অন্যান্য আসামিরা খোকন বেপারীকে এলোপাথারী মারপিট করতে থাকলে তার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় আহত খোকন বেপারীর স্ত্রী রিনা আক্তার বাদী হয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে ছয় জনকে আসামি করে ঝালকাঠি সদর থানায় মামলা (নং ০৬) দায়ের করেন। মামলার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহত খোকন বেপারী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পোনাবালিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের নূর মোহাম্মদ মাঝির পুত্র হাসান মাঝি দীর্ঘ বছর যাবত আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে নির্বাচিত হন। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে হাসান মাঝি আত্মগোপনে চলে যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে একটি গ্রুপের সাথে আঁতাত করে বিএনপিতে যোগদান করেন। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে সকলে মিলে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় নামলেও গোপনে হাসান মাঝি দাড়িপাল্লায ভোট চান। ইউনিয়ন যুবদল কর্মী খোকন এর প্রতিবাদ করলে তার সাথে মনমালিন্য সৃষ্টি হয়। নির্বাচনের পরের দিন হাসান মাঝি মীমাংসার কথা বলে খোকনকে আসতে বলেন। খোকন ঘটনাস্থলে আসার সাথে সাথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা হাসান মাঝি ও তার দলবল খোকনের উপরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আতর্কিত হামলা করে আহত করে।
হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে খোকনের পরিবার।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঝালকাঠি সদর থানার-উপ পরিদর্শক গোলাম পারভেজ জানান, আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




