sliderমতামতশিরোনাম

নির্বাচন কমিশন ২০২৩ ?

শাহীন রাজা : নির্বাচন কমিশন ২০০৮ থেকে এখন অবধি একই জায়গায়। সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দীন সরকার যেভাবে সাজিয়ে গেছে, সেভাবেই আছে। মাঝখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং কমিশনার বদল হয়েছে।
এক / এগারো’র পরবর্তী নির্বাচন আয়োজম ছিল, প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে বাইরে রাখা। এক / এগারো’র পরবর্তীতে বিএনপির হাইকমান্ড এবং নেতা, কর্মীরা মনে করে মান্নান ভুঁইয়া ফখরুদ্দীনের সাথে আঁতাত করেছে। তাই বিএনপি চেয়ারপার্সন আটক হবার আগে মান্নান ভুঁইয়াকে বহিষ্কার করেন। এবং খন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে স্থলাভিষিক্ত করেন।

কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচন প্রস্তুতিকালে নির্বাচন কমিশন, সকল দলের নেতাদের আলোচনা আহ্বান জানায়। এসময় নির্বাচন কমিশন সবাইকে অবাক করে দিয়ে সংলাপের জন্য আমন্ত্রণ জানায় সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে। মান্নান ভুঁইয়ার বহিষ্কারাদেশ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন মেজর হাফিজসহ বিএনপির আরো কিছু নেতা, যারা সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
দলের স্থায়ী কমিটির একটি অংশ খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত অমান্য করে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে মহাসচিব নিযুক্ত করে।

এমন অবস্থায় বিএনপির মূলধারা হিসেবে পরিচিত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে সংলাপের জন্য আমন্ত্রন না জানিয়ে সংস্কারপন্থী হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে আমন্ত্রন জানানোর বিষয়টি বিএনপির ভেতরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের প্ররোচনায় নির্বাচন কমিশন মূলধারার বিএনপিকে বাদ দিয়ে সংস্কারপন্থীদের স্বীকৃতি দিতে চাইছে।
সেই সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদার বক্তব্য সবাইকে আরো অবাক করে দেয়। তিনি বলেন, আমার কাছে প্রতিয়মান হচ্ছে না কোনটা মুলধারার বিএনপি। এরপর তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের আকাঙ্খা সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে সেই সময়কার একজন নির্বাচন কমিশনার ছিলে ব্রিগেডিয়ার ( অব:) সাখাওয়াত হোসেন। কমিশন থেকে অবসর নেয়ার পর তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থে তিনি উল্লেখ করেছেন, ” সে ভুলের মাশুল আমাদেরকে দিতে হয়েছে। আমার এখনো মনে হয় আমাদের (নির্বাচন কমিশন) বিরুদ্ধে বিএনপি‌-এর একমাত্র ক্ষোভের কারণ আমাদের ওই অতি উ‍ৎসাহী সিদ্ধান্ত,”।

২০০৮ – এর নির্বাচনের পর আরো দুটি নির্বাচন হয়েছে, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে। নির্বাচন দুটি দেশের ভেতর এবং বহিঃ বিশ্বে তেমন গ্রহণ যোগ্যতা লাভ করেনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর-তো সেই সময়কার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এক সভায় বলেই বসলেন, আগামীতে আর দিনের ভোট রাতে অনুষ্ঠিত হবে না। সুতরাং এর পর নির্বাচন নি আর কিছু বলার থাকে না।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) নামের দুটি দলকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন, নিবন্ধন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই দুটি দলকে নিবন্ধন দেয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে, একটা প্রধান রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। এর বাইরেও আরো কথা আছে। গত পাঁচ বছর এ দুটি দলের কোনো প্রকার কার্যক্রম চোখে পড়েনি। এর থেকে অনেক পরিচিত রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের অপেক্ষায় আছে। অথচ তাদের বেলায় কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে না। হয়তো নিবন্ধন লাভ করতেও পারে। নয়তো আবারও অপেক্ষা !
এই যদি হয় বর্তমান নির্বাচন কমিশনের আচরণ। তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জনে কতোটা সফল হবে ?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button