নিয়ামতপুরে সরিষা চাষে ঝুঁকেছে কৃষক বাম্পার ফলনের আশা

জনি আহমেদ,নিয়ামতপুর(নওগাঁ)প্রতিনিধি: ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে নওগাঁর নিয়ামতপুরে সরিষা চাষে ঝুঁকেছে কৃষক। উপজেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূল থাকলে সরিষার ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।নিয়ামতপুর কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে ৬ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছর ছিল ৪ হাজার ৪৮০ হেক্টর।
এ বছর কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের মাঝে সরকারিভাবে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ করায় এবার সরিষার আবাদ বেড়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা আমন ধান ঘরে তোলার পাশাপাশি সরিষা চাষের জন্য জমি প্রস্তত করছে। কেউ কেউ আবার সরিষা রোপন করে দুই সপ্তাহ পর কীটনাশক স্প্রে করছে। আর কয়েকদিন পর হলুদ ফুলে ছেয়ে যাবে দিগন্ত জোড়া মাঠ।
উপজেলার সরিষা চাষি মোজাহার হোসেন বলেন, জমি তো ফেলে রেখে লাভ নাই। তাই স্বল্প সময়ের কম খরচে সরিষা চাষ করা যায়। বর্তমান বাজারে তেলের দাম যে বেড়েছে, তেল কিনে খাওয়া সম্ভব না। তাই জমিতে বারী -১৪ ও বিনা-৭ জাতের সরিষা চাষ করেছি।
পরিবারে তেলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সরিষা বিক্রি করে বোরো আবাদের খরচ যোগান দিতে পারব। এবারও সরিষার ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি। আরেক সরিষা চাষি জালাল উদ্দীন বলেন, সরিষার রোপন করতে বিঘাপ্রতি প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হয়।
এ বছর ৪ বিঘা জমিতে বারী-১৪,টরি-৭ জাতের সরিষা লাগিয়েছি। সরিষার গাছপাত ভালো হয়েছে। ফলনও ভালো পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি। সরিষা চাষি সফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর ৫ বিঘা জমিতে বিনা-৭ বারী-১৪ ও টরি-৭ জাতের সরিষার আবাদ করেছি। বিঘাপ্রতি ৬-৭ মণ ফলন পাওয়া যায়। গতবছর ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা মণে সরিষা বিক্রি করেছি। স্বল্প সময়ের সরিষা চাষ করা অধিক লাভজনক। উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুল হাসান বলেন, সরকারিভাবে বিনামূল্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের মাঝে উন্নতমানের সরিষা বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে এবারও সরিষা চাষ করেছেন। আমরা আশাবাদী, উপজেলায় আগামীতে সরিষার আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে।




