নারায়ণগঞ্জে করোনায় নারীর মৃত্যু, ডাক্তারসহ ১০ জন কোয়ারেন্টাইনে

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যুর পর তার সংস্পর্শে থাকা হাসপাতালের এক ওয়ার্ডবয়কে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ওই নারীর চিকিৎসা প্রদানকারী এক ডাক্তারসহ আরও ১০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জিন ডা. মোহাম্মদ ইম তিয়াজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, করোনায় মৃত্যু হওয়া নারীর বাড়িসহ আশপাশের একশ পরিবারকে লকডাউনের আওতায় রাখা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরিবারগুলোর সকল সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত লকডাউন অব্যাহত থাকবে। এই লকডাউনের মেয়াদ আগামী ১৪ দিন স্থায়ী হতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
সিভিল সার্জন আরও জানান, গত ৩০ মার্চ বন্দরের রসুলবাগ এলাকার ওই নারী ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে করোনা সন্দেহে ভর্তি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সেদিনই মারা যান। পরে আইইডিসিআরকে খবর দিলে তারা এসে রোগীর মৃতদেহ হতে নমুনা সংগ্রহ করে। ২ দিন পর ২ এপ্রিল রিপোর্ট আসে তিনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ছিলেন।
পরে ওই রোগীকে সেবা প্রদানকারী ওয়ার্ডবয় বেশি কাছে ছিলেন তাকে জেলা করোনা আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ওই রোগীকে নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালের সেবা প্রদানকারী চিকিৎসক, নার্স, এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার, প্রাইভেট ল্যাবের ল্যাব টেকনিশিয়ান, এক্সরে টেকনিশিয়ান, আয়া ও চেম্বার এসিস্ট্যান্টকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।
মৃতের পরিবারের ৭ সদস্য ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তিনজনসহ ১০ জনকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বরফকল ঘাটের সন্নিকটে একরামপুর এলাকার শতাধিক পরিবারসহ রসুলবাগ মহল্লার একাংশ বৃহস্পতিবার রাত ১০টা হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত লকডাউন করে জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে বন্দর উপজেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শুক্লা সরকার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) মো. খোরশেদ আলম। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের একটি ওয়াটার বাউজারের সাহায্যে তরল জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে লকডাউন করা এলাকায়।
বন্দর থানার (তদন্ত) পুলিশ পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম জানান, দুইজন সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সহ মোট ৭জন পুলিশ সদস্য লকডাউন করা এলাকায় সার্বক্ষণিক মোতায়েন করা হয়েছে।




