slider

নাটোর পৌরবাসী বর্ধিত নতুন কর নিয়ে উদ্বিগ্ন

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোর পৌরসভার নতুন পৌরকর নির্ধারণে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেছেন শহরের বিভিন্ন এলাকার হোল্ডিং মালিকরা। পৌরসভার নতুন পৌর কর নির্ধারণের অবগতির নোটিশে বেশিরভাগ হোল্ডিং মালিকের পুরাতন করের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি কর নির্ধারণ করায় হোল্ডিং মালিকরা (পৌরসভার বাসিন্দারা) দুশ্চি ন্তায় পড়েছেন। গত ৭ দিন ধরে একাধিক পৌর নাগরিক গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ফোন করে নতুন বর্ধিত কর দেখে তাদের উদ্বিগ্নতার কথা জানিয়েছেন।
নাগরিকদের অভিযোগ, নাটোর পৌরসভায় গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) বৃদ্ধি নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, অতিরিক্ত কর ধার্য করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৫ গুণ পর্যন্ত কর বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে গৃহকর আপত্তির বিষয়ে পৌরসভায় শুনানি অব্যাহত রয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়ম মেনে কয়েক বছর আগেই গৃহকর বাড়ানো হয়েছিল। তবে করোনাসহ বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কর কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অবশ্য. নাটোর পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন,পৌরসভা আইন-২০০৯ অনুযায়ী পঞ্চবার্ষিকী কর নির্ধারণের কাজ চলছে। কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে সরকার নির্ধারিত হারে প্রাথমিক কর নির্ধারণ করে ভবন মালিকগণকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। কর রিভিউ কমিটিতে সম্মানিত করদাতাগণের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সহনশীল পর্যায়ে কর নির্ধারণ চূড়ান্ত হবে। পৌরবাসীর উপর বোঝা হয় এমন কোন কর আরোপ পৌর কর্তৃপক্ষ করবে না ।
পৌরসভার এমন প্রচারণায়ও সন্তুষ্ট হতে পারছেন না নাগরিকরা। পৌরসভা ম্যানুয়েলের তৃতীয় অধ্যায়ে কর নির্ধারণের যে পদ্ধতি রয়েছে, অনেকে বলেছেন নতুন কর নির্ধারণি প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে সেটি অনুসরণ করা হয়নি।
শহরের কাপুড়িয়াপট্রির কৃষ্ণা রানী বসাক বলেন, আগে তাঁর হোল্ডিং ট্যাক্স ছিল ২০০ টাকা। সেটি বাড়িয়ে ২ হাজার ৭০০ টাকা করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১৩ গুণ কর বেড়েছে।
শহরের বড়গাছা বড়গাছা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলীম উদ্দীন বলেন, আমার দুইতলা বাড়ি’র পৌর কর ছিল ৩ হাজার টাকা। নতুন করে বাড়ি বড় করিনি। কিন্তু এবার পৌরসভা থেকে বাড়ির পৌরকর নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। যা কোনভাবেই স্বাভাবিক মনে হয়নি।
আলীম উদ্দীন বলেন, পৌরকর বাড়ানোর চিঠি দেবার আগে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল একটা গণশুনানী বা পৌরবাসীর সাথে আলোচনা করা। বাড়ির বর্ধিত পৌরকর দেখে উদ্বেগের কথা এ প্রতিবেদকে জানিয়েছেন শহরের সচেতন বাসিন্দারা।
শহরের উত্তর বড়গাছা মহল্লার ব্যবসায়ী চন্দন আলী জানাান, আমার বাসার পৌরকর ছিল ৪৫০ টাকা। তবে আগে বাসাটি একতলা ছিল। নতুন করে বাসাটি দুই তলা করেছি। পৌরকর বাড়ানো হলে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারত। কিন্তু পৌরকর বহু গুন বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ হাজার ১৫২ টাকা। এতো টাকা পৌর কর আমি কিভাবে দেব। কোন ভাবেই আমার পক্ষে এতবেশি টাকা পৌরকর দেয়া সম্ভব নয়। আমাদের অনুরোধ মেয়র সাহেব পৌর করের বিষয়টি বিবেচনা করবেন এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে বাড়াবেন।
শহরের আলাইপুর মহল্লার আজমল আলী বলেন, সবার মত আমারও পৌরকর বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে আমাদের পৌরকর ছিল ৪০০ টাকা এবার নির্ধারণ হয়েছে ৪ হাজার টাকার উপরে।
শহরের কানাইখালী মহল্লার আব্দুল মান্নান জানান, গত বছর পৌর কর ছিল ৩শ টাকার একটু বেশি। কিন্তু এবার পৌরকরের কাগজ পেয়েছি, তাতে ৫ হাজার ৫২ টাকা উল্লে রয়েছে। এত টাকা পৌরকর কিভাবে আমরা পরিশোধ করব। শুনেছি আমার একার নয়, সবারই কর বাড়ানো হয়েছে।
পৌরসভার অ্যাসেসমেন্ট শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ২০১৮ সালের নির্দেশনা অনুযায়ি নতুন জেলা শহরের কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভবন বা এই ধরনের স্থাপনার ভাড়া নির্ধারণ হয়েছে ।
শহরের পুরাতন জেলখানা হামিন আলী বলেন, আইন কানুন নির্দেশনা যাই থাকুক, একসঙ্গে এভাবে করের বোঝা সহ্য করা কঠিন। গত বছর আমার কর ছিল ২৫৫৮ টাকা, এবার হয়েছে ৬৯ হাজার ৪৪১ টাকা। পৌর বিধি অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী পৌরসভার কর ও বর্ধিত কর যাচাইয়ের বিধান রয়েছে। এটি পৌর কর্তৃপক্ষ করেছেন কী না জানি না। এটি যাচাই করে এবং জনগণের সঙ্গে কথা বলে পৌর কর নির্ধারণ করলে ভাল হয়
শহরের বিভিন্ন পেশার মানুষ জানান,পৌরসভার নাগরিকদের উপর অস্বাভাবিক করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ায় করণিয় নির্ধারণের জন্য আমার নিজের মহল্লার বাসিন্দাদের সঙ্গে আমি মতবিনিময় করেছি। পৌর নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কর নির্ধারণ করা হবে। এই উদ্যোগকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই। আশা করা যায়, শহরের সকল শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গণসংলাপের মাধ্যমে সহনীয় পর্যায়ে পৌর কর নির্ধারণ হবে। অসহনীয় পৌর কর নির্ধারণ হলে আমি মহল্লায় মহল্লায় গিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবো।
পৌর কাউন্সিলর ও কর নির্ধারনী কমিটির আহবায়ক জাহিদুর রহমান জাহিদ জানান, পৌরসভার বাসা-বাড়ি, বাণিজ্যিক-আবাণিজ্যিক ভবনের পৌরকর নির্ধারণের বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী সরকারি গেজেট মোতাবেক করা হয়েছে। সুদীর্ঘ দিন পৌরসভার কর নির্ধারণ না করায় প্রাথমিক কর সম্মানিত করদাতাদের নিকট অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। এই জন্য আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ পৌরসভার রিভিউ কমিটি নাগরিকগণের আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে। কর রিভিউ কমিটি সম্মানিত করদাতাগণের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সহনশীল পর্যায়ে কর নির্ধারণ চূড়া ন্ত করা হবে। পৌরবাসীর উপর বোঝা হয় এমন কোন করারোপ পৌর কর্তৃপক্ষ করবে না ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button