sliderস্থানিয়

নলছিটির মন্ডপে মন্ডপে চলছে দেবীদূর্গাকে বরণের প্রস্তুতি

মো:শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: শুভ মহালয়ায় দেবীর আবাহন শেষে ঝালকাঠির নলছিটিতে মন্ডপে মন্ডপে এখন দেবীদূর্গাকে বরণের প্রস্তুতি চলছে। সনাতন ধর্মবলম্বীদের দেবীদুর্গা আসছেন মর্ত্যলোকে। তাই দম ফেলার ফুসরত নেই প্রতিমাশিল্পী ও আয়োজকদের। চলছে রং-তুলির শেষ আঁচড়।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যতই পূজার দিন এগিয়ে আসছে, শিল্পীদের ব্যস্ততা ততটাই বাড়ছে। মন্দিরে কারিগররা ফুটিয়ে তুলছেন দুর্গা, ল²ী, সরস্বতী, গণেশ-কার্তিক ও অসুরের প্রতিমা। কিছু কিছু মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষে রংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। দেবী দুর্গাকে সাজিয়ে তুলতে তুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা।

উৎসবের দিনগুলোকে নির্বিঘœ রাখতে প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে পূজা উদযাপন কমিটির নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

গত রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দূর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন শুভ মহালয়া।
শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণ গণনা শুরু হয়। ওইদিন কৈলাশের শ্বশুরালয় থেকে সন্তানদের নিয়ে মর্ত্যে আসেন দেবী দুর্গা। মন্দিরে মন্দিরে চন্ডি পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবী দুর্গার আবাহন। চলে দেবীর চক্ষুদানের প্রস্তুতি ও শেষ রং তুলির আচর।

শরৎ আসলেই শিউলি ফুলের মিষ্টি গন্ধে এবং প্রস্ফুটিত সাদা কাশফুলে পুরো দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব দুর্গাপূজার হাওয়া বইতে থাকে। মন্দির ও মন্ডপে শুরু হয় প্রতিমা তৈরির কাজ। এই মুহুর্তে দেবী দুর্গার অনিন্দ্য সুন্দর রূপ দিতে প্রতিমা তৈরির কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস মতে, প্রতি বছর শরৎকালে দেবী দুর্গা একবার কৈলাশ থেকে মর্ত্যে আসেন। মায়ের আগমনকে কেন্দ্র করে মর্ত্যে ভক্তরা মেতে ওঠেন উৎসবে।

সেই প্রস্তুতিই সরেজমিন দেখা গেছে জেলা শহরের হরিসভা, তারাবাড়ি ও পুরানবাজারসহ সকল পূজা মন্ডপে। চলছে শেষ মূহুর্তের রং ও সাজসজ্জার কাজও। দম ফেলার ফুসরত নেই প্রতিমা শিল্পীদের। কোনো কোনো প্রতিমায় আবার পড়ানো হচ্ছে শাড়ি, হাতের বালাসহ অন্যান্য গহনা। পাশাপাশি আলোকসজ্জা, প্যান্ডেল তৈরি, মন্ডপ ও তার আশপাশে সাজসজ্জার কাজসহ নানা কাজেও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পূজার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

নলছিটি উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পলাশ সজ্জন জানান,গত রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী পক্ষের মর্ত্যে আগমন শুরু হয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু হবে দূর্গপূজার আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর পূজা শেষে দূর্গা দেবীকে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দূর্গ উৎসব। আবারো দেবী দূর্গ কৈলশে ফিরে যাবেন।

উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য বিশেষ কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়োগ, প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, প্রতিটি পূজা মন্ডপে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাবস্থা এবং বিজয়া দশমীওেত সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বিসর্জনের ব্যবস্থা নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ। এছাড়াও পূজা মন্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাদা পোশাকে তদারকি, অবস্থানবেধে ৪জন থেকে ৮জন করে সার্বক্ষনিক আনসার নিয়োগ থাকবে। এছাড়াও সেনাবাহিনী, পুলিশর এবং র‌্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স পূজার মন্ডপগুলিতে ভ্রাম্যমাণ টহলে থাকবেন।

নলছিটি উপজেলায় এবছর ২০টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ উপজেলায় ২৩টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গা পূজা উৎসব উদযাপন করা হয়েছে। সেই তুলনায় এবছর ৩টি পূজা মন্ডপ কমেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button