
মো.শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটিতে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মানপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা এবং তার একই পরিবারের তিনজনকে সংঘবদ্ধভাবে মারধরের ঘটনায় মামলা করায় আসামিরা বাদীকে প্রাণ নাসের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কুসঙ্গল ইউনিয়নের ভাউমহল গ্রামের এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে দুইজন নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় ১২ জুন ২০২৫ তারিখে নলছিটি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আহত শিক্ষিকা কহিনূর বেগম জানান, “আমার স্বামী বাড়ির সামনে খড়-কুটা ফেলছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন এসে তাকে মারধর শুরু করে। আমি ও মেয়ে ফাতেমা জাহান এগিয়ে গেলে আমাদেরও মারধর করা হয়। এতে আমার নাকের হাড় ভেঙে গেছে, চোখে রক্ত জমে আছে। এমনকি আমার গায়ের পোশাক ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়।”
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন বেলা সাড়ে ১১টায় মো.আলমগীর সিকদার তার বসতবাড়ির সামনে খড়-কুটা ফেলছিলেন। পূর্ব জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই এলাকার আশিকুর রহমান সৌরভ, হাবিবা বেগম ও নূর ইসলামসহ কয়েকজন লোহার রড ও লাঠি নিয়ে তার ওপর আক্রমণ চালায়। চিৎকার শুনে তার স্ত্রী ও মেয়ে এগিয়ে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। অভিযোগে শিক্ষিকার শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং কন্যা ফাতেমার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ রয়েছে। এতে আহতরা বরিশালের শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। তবে এখনো পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাদী মো. আলমগীর সিকদার জানান,”মামলা করার পর থেকে আসামিরা হুমকি দিচ্ছে। তারা আমাদের পঙ্গু বা হত্যা করে লাশ গুম করার পরিকল্পনা করছে।”
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সালাম জানান,”বাদীকে হুমকির কোন অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।




