আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

নদীতে ডুবেই শেষ বাবা-মেয়ের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার স্বপ্ন

নদীর পানিতে উপুড় অবস্থায় নিথর দেহ নিয়ে পড়ে আছেন এক ব্যক্তি আর তার পিঠের উপরেই একই ভাবে পড়ে আছে একটি কন্যা শিশু। এই ছবিটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই শৈশব, যেখানে একটি শিশু পরম আদরে ও নিরাপদে ঘুমিয়ে পড়ে তার পিতার পিঠে বা বুকের উপর! হ্যাঁ, নিহত ব্যক্তিটি ওই কন্যা শিশুটির পিতা।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশী ওই বাবা তার শিশু কন্যাকে নিয়ে নদী পার হওয়ার সময় ডুবে মারা যায় বলে জানা গেছে। হৃদয়বিদারক এই ছবি এর মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ছে সারা বিশ্বে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক আর্ন্তজাতিক সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
ওই ছবিতে দেখা যায়, শিশুটির পরনে লাল রঙের প্যান্ট, পায়ে জুতা। বাবা আর মেয়ের মাথার কিছু অংশ কালো কাপড়ে ঢাকা। শিশুটির একটি হাত তখন্ও বাবার কাঁধ জড়িয়ে ধরে আছে।
মৃত ব্যক্তি অস্কার আলবার্টো মার্টিনেজ এল সলভাদরের বাসিন্দা। তিনি ওই দিন স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মেক্সিকান বর্ডার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওযার চেষ্টা করছিলেন। আলবার্টো রিও গ্রান্ডো নদী সাঁতড়ে তার স্ত্রীর কাছে আসছিলেন। এ সময় তার ২৩ মাস বয়সী শিশু কন্যা ভ্যালেরিয়া তাকে দেখে পানিতে ঝাঁপ দেয়। পরে তাদের নিথর দেহ রিও গ্রান্ডে নদীর মেক্সিকোর মাতামোরোস অংশে ভেসে ওঠে।
আলবার্টোর স্ত্রী তানিয়া লা জর্নাদা বলেন, ‘চোখের সামনেই আমি আমার স্বামী ও বাচ্চাকে স্রোতে ডুবে যেতে দেখেছি।’
ছবিটির ফটোগ্রাফার মেক্সিকান জুলিয়া লে ডাক দেশটির সংবাদ মাধ্যম লা জর্নাদায় লিখেছেন, ‘মেয়েকে বাঁচাতে বাবা প্রাণপন চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু প্রচণ্ড স্রোতে তাদের এই করুণ পরিণতি হয়।’
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত সঙ্কট এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষ্ঠুর অভিবাসন নীতির জলন্ত প্রমাণই যেন এই ছবিটি।
মর্মান্তিক এই মৃত্যুর ঘটনায় সালভাদরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্দ্রা হিল জনগণের প্রতি অনুরোধ জানান, তারা যেন দেশেই থাকে, উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে না যায়। একইসঙ্গে তিনি দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট সমাধানেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিতা ও কন্যার এই মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘ফের শোকে ভাসছে দেশ। আমি সব পরিবারের কাছে অনুরোধ করছি, আপনারা ঝুঁকি নেবেন না। জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।’ একই সাথে মেক্সিকোতে থাকা সালভাদরের অভিবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, আইলান কুর্দির নামে তুরস্কের উপকূলে ৫ বছর বয়সী শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকার ছবি বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন তুলেছিল। সিরিয়া থেকে আসা একদল শরণার্থী তুরস্ক হয়ে গ্রিসের কস্ দ্বীপে যাওয়ার সময় নৌকাডুবিতে আইলান মারা যায়। একই ভাবে আইলানেরও নিথর দেহটি ভেসে আসেছিলো সমূদ্র সৈকতে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button