sliderস্থানিয়

ধামরাইয়ে মাদ্রাসা শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় বিএনপি-যুবদল জড়িত নয় – ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার ধামরাই সদর ইউনিয়নের ডেমরান এলাকার মারকাজ ওমরবিন খাত্তাব মাদ্রাসার শিক্ষককে মারধর করার ঘটনায় একটি মহল বিএনপি-যুবদলের নেতাকর্মীদের জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ও ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ|

শনিবার তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন, ধামরাই থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাসউদুর রহমানসহ উপজেলার আলেমদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনায় বিএনপি-যুবদলের জড়িত থাকার কোন সত্যতা না পাওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে আমাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে একটি দেশবিরোধী চক্রান্তকারী মহল গুপ্ত রাজনীতি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন|

তিনি আরও বলেন, যেখানে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, স্থানীয় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও থানার ওসি (তদন্ত) বলছেন এ ঘটনায় বিএনপি-যুবদল জড়িত নয়, তাহলে ওই মহল কিভাবে বলে বিএনপি-যুবদল নেতারা শিক্ষককে পিটিয়েছে| তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপ্রপ্রচারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করেন|
 
জানা গেছে, গত বছরের ২ নভেম্বর ধামরাই সদর ইউনিয়নের ডেমরান এলাকার মারকাজ ওমরবিন খাত্তাব মাদ্রাসার শিক্ষক আবুল হাসনাতের বিরুদ্ধে ওই মাদ্রাসার এক ছাত্রকে (১১) বলৎকারের অভিযোগ উঠে| এরপর ঘটনাটি ওই ছাত্রের বাবা, মা, চাচা খবর পেয়ে ফেনী থেকে গত বছরের ৪ নভেম্বর ধামরাইয়ের ওই মাদ্রাসায় গিয়ে অন্য ছাত্রদের সামনেই অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল হাসনাতকে সাইকেলের চেইন দিয়ে বেধরক মারধর করে| এবং ছাত্রের বাবার অভিযোগে ধামরাই থানা পুলিশ ওই মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন| বর্তমানেও সে জেলহাজতে রয়েছে| এ মারধরের ঘটনাটির ৬ মাস পর গত বৃহস্পতিবার একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ ‘আল্লামা সাঈদী আমাদের প্রেরণা’ নামে একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সেখানে লেখা হয়েছে ধামরাইয়ে মাদ্রাসায় আসতে দেরি করায় যুবদল নেতার ছেলেকে বের করে দেওয়ায় কোমলমতি ছাত্রদের সামনে শিক্ষককে বেধড়ক মারলো বিএনপি| আরেক ক্যাপশনে লেখা হয়েছে ধামরাইয়ে মাদ্রাসায় ঢুকে কমলমতি বাচ্চাদের সম্মুখেই শিক্ষককে বেধড়ক পেটালো যুবদলের দুই নেতা| এমন লেখা ও ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং বিএনপি মিডিয়া সেলের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করতে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন, ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ, ঢাকা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, ঢাকা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান প্রমূখ|
   
স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন, আমার বাড়ির পাশে এমন ঘটনা ঘটলে ৬ মাস আগেই আমি জানতাম| আমাদের দলের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা তথ্য প্রচারকারীরা দেশের শত্রু| অপরাধ যেই করুক তার শাস্তি দাবি করেন তিনি|
   
এ বিষয়ে তদন্তকালে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাসউদুর রহমান বলেন, বিএনপি বা যুবদলের কোন নেতাই আমাদের মাদ্রাসার শিক্ষককে মারধর করেনি| মারধর করেছে ওই ছাত্রের বাবা, মা ও চাচা| তাদের বাড়িও ফেনী জেলায়| তাদের বিরুদ্ধে আমি নিজে বাদী হয়ে গত বছরের ৪ নভেম্বর ধামরাই থানায় জিডি করেছি|
   
ধামরাই থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগে শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে| আর ক্ষোভের জের ধরেই ছাত্রের বাবা, মা ও চাচারাই শিক্ষককে পিটিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে| তবে বিএনপি বা যুবদলের কোন নেতাই তাকে পেটানোর তথ্য পাওয়া যায়নি| শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় গত বছরের ৪ নভে¤^র ধামরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে|

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button