ধর্ষণবিরোধী সমাবেশে সংস্কৃতিকর্মীরা: ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি

অতীতে বিভিন্ন ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়ার কারণেই প্রতিদিন বেড়ে চলেছে ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা। বুধবার বিকেলে সেগুনবাগিচার জাতীয় নাট্যশালার সামনে ধর্ষণবিরোধী সমাবেশে এ কথা বলেন বক্তারা।
ঢাবি শিক্ষার্থীর ধর্ষণের ঘটনায় ‘বিক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মী’র ব্যানারে আয়োজিত এই সমাবেশের অন্যতম সমন্বয়ক বটতলা নাট্যদলের আর্টিস্টিক ডিরেক্টর মোহাম্মদ আলী হায়দার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এর আগে সোহাগী জাহান তনু, রুপাসহ অসংখ্য ধর্ষণের ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রতি বছর দেড় হাজারেরও বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে দেশে। অথচ ন্যায়বিচার হয় না বলেই সেই ধারাবাহিকতার পথ ধরে ঢাবি শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। গত ১ তারিখেও সাভারে ছোট্ট একটি মেয়েকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সারা দেশে এমন অনেক ঘটনা ঘটছে। তাই আমরা মনে করি, ধর্ষণ বন্ধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা জরুরি।’
প্রতিবাদ সমাবেশে নাট্যসংগঠন বটতলা, আরণ্যক, অনুস্বর, প্রাচ্যনাট, থিয়েটার আর্ট ইউনিট, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীসহ রাজধানীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন। বক্তৃতা করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি চন্দন রেজা, নাট্যনির্দেশক কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন, বাকার বকুলসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, ‘প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এগুলোর ন্যায়বিচার হয় না। পাশাপাশি আমাদের ছেলেরা কেন ধর্ষণের মতো ঘৃণিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাচ্ছে, সেটাও বোঝার দরকার। তরুণ প্রজন্মকে সংস্কৃতিমনা করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সামাজিক এই অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব। এর জন্য বড় রকমের সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটানো জরুরি।’
নাট্যনির্দেশক বাকার বকুল বলেন, ‘স্বামীর কাছে ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছেন স্ত্রী, চাচার কাছে ভাতিজির ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। আমাদের চিন্তায়-মননে যে অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শিক্ষা-সংস্কৃতির সমন্বয় জরুরি। সামাজিক মূল্যবোধের জাগরণ জরুরি।’
প্রতিবাদ সমাবেশে বিভিন্ন নাট্যদলের কর্মীদের অংশগ্রহণে মঞ্চায়িত হয় ‘আপনাদের ধন্যবাদ, চুপ থাকার জন্য’ শীর্ষক একটি নাটক। এতে সমসাময়িক বিভিন্ন ধর্ষণের ঘটনার বিচার না পাওয়ার ব্যর্থতা তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধর্ষণবিরোধী একটি পরিবেশনায় অংশ নেয়।




