
পতাকা ডেস্ক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত প্রার্থীদের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক কোয়ালিশন। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, ‘যেসব প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব বা বিদেশে সম্পদ থাকার বিষয়ে নতুন করে সুস্পষ্ট অভিযোগ উঠেছে, সেসব আসনে নির্বাচন স্থগিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করতে হবে।’
রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো সংস্কারে নাগরিক উদ্যোগ হিসেবে শনিবার নাগরিক কোয়ালিশনের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়ে সারা দেশের জনগণ ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচনী আইনের যথাযথ, নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগ অপরিহার্য বলে মনে করে নাগরিক সমাজ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নাগরিক সমাজ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা অনুমোদনের সময় নির্বাচনী আইনে নির্ধারিত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, একাধিক প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় বিদেশে নাগরিকত্ব গ্রহণ ও বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে তথ্য গোপন করেছেন।’
নাগরিক কোয়ালিশনের মতে,‘এটি নির্বাচনী আইনের সরাসরি লঙ্ঘন এবং এ ধরনের অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মনোনয়ন আইনগতভাবে বাতিলযোগ্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, যাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে, তাদের প্রার্থিতা নির্বাচন কমিশন বৈধ ঘোষণা করেছে এবং তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশে নতুন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, গুটি কয়েক প্রার্থীর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভুল—হয়তো অনিচ্ছাকৃত—সিদ্ধান্তের কারণে সেই অর্জন কলঙ্কিত হওয়া উচিত নয়।’
নাগরিক কোয়ালিশনের মতে,‘এমনটি হলে জুলাই আন্দোলনে জীবন দেওয়া শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিও অবমাননা করা হবে।’
এ অবস্থায় নাগরিক কোয়ালিশন দাবি জানায়,‘যেসব প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে, সেসব আসনে সাময়িকভাবে নির্বাচন স্থগিত রেখে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হোক। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে দ্রুত নতুন নির্বাচনী তারিখ ঘোষণা করা যেতে পারে।’ আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করা নির্বাচন কমিশনের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।




