sliderস্থানিয়

দৌলতপুর সরকারি মতিলাল কলেজের  অভিভাবক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা

মোঃ শাহ আলম,দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং ঝরে পড়ার হার কমাতে অভিভাবকদের ভূমিকা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে  সচেতনতা মুলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার ১০ ডিসেম্বর দৌলতপুর সরকারি মতিলাল ডিগ্রী কলেজের আয়োজনে কলেজের হলরুমে  এক গুরুত্বপূর্ণ ‘অভিভাবক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অভিভাবক সমাবেশে অত্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সত্যজিৎ দত্তের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অভিভাবক সমাবেশ আয়োজক কমিটির আহবায়ক প্রভাষক মোঃ মতিউর রহমান, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোঃ শাহ আলম, সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠান পরিচালনায় ইংরেজি শিক্ষক প্রভাষক মোঃ শাহানুর ইসলাম। 
অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্বজিৎ আচার্য ও আব্দুল বাতেনসহ আরো অনেকেই।

​সভায় বিপুল সংখ্যক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি আলোচনা করেন।

​সভার মূল উদ্দেশ্য “সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে অভিভাবকের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিভাবক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা।” সভায় বক্তারা এই লক্ষ্য অর্জনে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর জোর দেন:
সন্তানের প্রতি যত্নশীল হওয়া: বক্তারা উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র বিদ্যালয়ে পাঠিয়েই অভিভাবকদের দায়িত্ব শেষ হয় না। বাড়িতে পড়ালেখার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং সন্তানের প্রতি নিয়মিত যত্নশীল হওয়া জরুরি। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে ভালো ফল অর্জনের জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

​বক্তারা বলেন, একজন ‘পরিপূর্ণ মানুষ’ হিসেবে গড়ে তুলতে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।

​অন্যান্য বক্তারাও সন্তানের নিয়মিত উপস্থিতির ওপর জোর দেন এবং কলেজ কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

এবিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সত্যজিৎ দত্ত বলেন – ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম চালু করা হবে কোন শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন নিয়ে কলেজে ঢুকতে পারবেন না।কোন শিক্ষার্থী ড্রেস ছাড়া কলেজে ঢুকতে পারবেন না। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শিক্ষাগত বিকাশে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে, দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের জন্য অতিরিক্ত পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হবে এবং নিয়মিতভাবে অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রাখা হবে। তিনি আরোও বলেন  সভার মাধ্যমে অভিভাবকরা তাদের সন্তানের সুশিক্ষার প্রতি আরও বেশি সচেতন হবেন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে।

সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ, আমার প্রিয় শিক্ষকমণ্ডলী, এবং স্নেহের শিক্ষার্থীবৃন্দ।
আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই আপনাদের সকলকে, যাঁরা আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। আপনারা শুধু আপনার সন্তানদেরই নয়, এই কলেজের শিক্ষার পরিবেশকে সমৃদ্ধ করার জন্য সময় দিয়েছেন।

​শিক্ষার মান উন্নয়নের কাজটি কেবল আমাদের শিক্ষকদের একার নয়। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার ভিত্তিপ্রস্তর হলো কলেজ, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতু বন্ধন। আপনার সন্তান যখন কলেজে থাকে, তখন তারা আমাদের দায়িত্ব; কিন্তু যখন তারা বাড়িতে থাকে, তখন আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা যেন শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাকেই মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে। অতিরিক্ত কোচিং বা গৃহশিক্ষকের ওপর অতি নির্ভরতা অনেক সময় শিক্ষার্থীর স্ব-শিক্ষার আগ্রহকে কমিয়ে দেয়।

​স্নেহের শিক্ষার্থীরা, তোমরা এই কলেজের ভবিষ্যৎ। তোমাদের হাতেই আমাদের এলাকার এবং দেশের আগামী দিনের নেতৃত্ব। তোমাদের কাছে আমার কয়েকটি জরুরি বার্তা:

​শৃঙ্খলাকে জীবনের অঙ্গ করো: একজন ভালো ছাত্র হওয়ার আগে তোমাকে একজন ভালো মানুষ হতে হবে। কলেজের নিয়ম-শৃঙ্খলা কঠোরভাবে মেনে চলো। মনে রাখবে, শৃঙ্খলা তোমাকে লক্ষ্যে অবিচল থাকতে সাহায্য করবে।

​পাঠ্যসূচির বাইরেও জ্ঞান অন্বেষণ করো: শুধু ভালো ফলাফল করাই শিক্ষার শেষ কথা নয়। পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও বই পড়ো, সাধারণ জ্ঞান অর্জন করো এবং নিজেদের মননশীলতাকে বিকশিত করো। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে কেবল ডিগ্রি যথেষ্ট নয়, চাই দক্ষতা ও প্রজ্ঞা।

​আমাদের  লক্ষ্য ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি:

​দৌলতপুর সরকারি মতিলাল ডিগ্রী কলেজ সর্বদা গুণগত শিক্ষা প্রদানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা চাই, প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন উচ্চশিক্ষা বা কর্মজীবনে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়ে এখান থেকে বের হয়। তোমাদের লক্ষ্য যদি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া হয়, তবে প্রথম দিন থেকেই সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। তোমাদের সহায়তার জন্য আমাদের শিক্ষকরা সর্বদা প্রস্তুত।

​নেশামুক্ত জীবন গড়ো: আমি বিশেষভাবে বলতে চাই, সকল প্রকার নেশা এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর কার্যক্রম থেকে তোমরা দূরে থাকবে। একটি সুস্থ ও সবল মনই পারে বড় স্বপ্ন দেখতে ও তা পূরণ করতে।

​আসুন, আমরা সকলে মিলে একটি উন্নত শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলি। আপনাদের সহযোগিতা ও শিক্ষার্থীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাই আমাদের কলেজের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button