দোহার-নবাবগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন পানিবন্দি হাজারো মানুষ।
দোহার-নবাবগঞ্জ-মানিকগঞ্জ রক্ষা বাঁধের নিম্নাঞ্চল বিস্তীর্ণ প্রায় ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবাবগঞ্জ উপজেলার পদ্মার তীরবর্তী জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের তিতপালিদয়া, পানিকাউর, কঠুরি, আশয়পুর, রায়পুর, ঘোষাইল, কেদারপুর, আর ঘোষাইল, রাজাপুর, বালেঙ্গা, কান্তারটেক, খাটবাজার, নয়াডাঙ্গী, চারাখালী ও পশ্চিম সোনাবাজু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো পরিবার।
অপরদিকে দোহার উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে নয়াবাড়ি, মাহমুদপুর, বিলাসপুর, সুতারপাড়া, নারিশা ও মুকসুদপুর ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি।
এছাড়া উপজেলার ধোয়াইর বাজারসহ পূর্ব ও পশ্চিম ধোয়াইর গ্রামের বেশির ভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে হয়েছে।
নারিশা ইউনিয়নের মেঘুলা বাজার, বিলাসপুরের মধুরচর, রানীপুর, কৃষ্ণদেবপুর, রাধানগর, মাহমুদপুরের নারায়ণপুর, হরিচন্ডি ও মুকসুদপুরের পদ্মার তীরবর্তী অঞ্চলের অনেক এলাকা পানির নিচে। ফলে পদ্মানদী তীরবর্তী এই মানুষগুলো প্রাণ বাঁচাতে ও জীবিকার তাগিদে অন্যত্র সরে যাচ্ছে।
বন্যার পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়াতে র্দুভোগে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষ। তলিয়ে গেছে স্কুল, হাঁট-বাজার, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা। নৌকা না থাকায় অনেকেই কলাগাছের ভেলা ব্যবহার করেও হাট-বাজার করছেন।
সেখানে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। পদ্মার পানিতে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন এসব অঞ্চলের কৃষক পরিবারগুলো। গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধি কয়েক দিন প্রবল বৃষ্টির কারণে নবাবগঞ্জ উপজেলার কাশিয়া খালীর রক্ষা বেড়িবাঁধটি হুমকিতে রয়েছেন বলে জানান সেখানকার বাসিন্দারা।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দীন মনজু বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যা কবলিতদের মাঝে সহায়তা করা হয়েছে। নতুন করে যদি কোনো চাহিদা থাকে তালিকা করে সেটাও করা হবে বলে জানান তিনি।
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ বলেন, দোহারে পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানো হয়েছে। এ ছাড়া মুকসুদ এলাকায় গাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসায় আশ্রয় নেয়া পানিবন্দিদের মাঝে ত্রাণ ও রান্না করা খাবার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা। দেশ রূপান্তর




