slider

দোহারে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে ভাঙচুরের অভিযোগ

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার দোহারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। যা পরবর্তীতে চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মালিক পক্ষ ও ছাত্রলীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় রূপ নেয়। এ ঘটনায় উত্তপ্ত পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলামের বাবা পল্লী চিকিৎসক মো. আজহার ও তার মা জয়পাড়া চাইনিজ রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে প্রবেশ করে। খাবার পরিবেশনের সময় তার বাবার সঙ্গে ওই রেস্টুরেন্টের এক কর্মচারীর ধাক্কা লাগে। এ ঘটনায় তাদের উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পল্লী চিকিৎসক মো. আজহার তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। তার কিছুক্ষণের মধ্যে দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম সহ ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চাইনিজের এক কর্মচারীকে মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে তার চাইনিজের ক্যাশ কাউন্টার সহ কিছু আইসক্রিম রাখার ফ্রিজ ও বেশকিছু মালামাল ভেঙে উপজেলা পরিষদের মধ্যে প্রবেশ করে। ঘটনার পর দোহার থানার সেকেন্ড অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর আধাঘণ্টা যেতে না যেতেই উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও তার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বেশ কয়েকজন উপজেলা গেট থেকে বের হতেই চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মালিক পক্ষের লোকজন তাদের ধাওয়া দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে নিয়ে যায়।
দোহার থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে অন্তত ১০/১৫ জন পুলিশ লাঠিসোটা নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনা কিছুক্ষণের মধ্যে ওই বাজারে ছড়িয়ে পড়লে সব ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মৌন প্রতিবাদ জানায়। জয়পাড়া পূর্ব বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুলহাস উদ্দিন বলেন, আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করছি। কারন পরাপর দুদিন এধরনের ঘটনা ঘটলো যা কোনো প্রকার কাম্য নয়। এতে করে আমাদের ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করতে আতঙ্কবোধ করছে। এ বিষয়ে দোহার থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা কামাল বলেন, কোনো পক্ষই আমাদের থানায় কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি। তবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে সব ধরনের পুলিশের জিরো টলারেন্স ভূমিকার কথা জানান ওসি মোস্তফা কামাল। দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই রেস্টুরেন্টের কর্মচারী আমার বাবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে তাই আমি তাদের রেস্টুরেন্ট ভেঙেছি। আশা রাখি আপনি বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবে দেখবেন। উল্লেখ্য: গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও এই রেস্টুরেন্টে একটি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে জয়পাড়া চাইনিজ রেস্টুরেন্টের কর্ণধার কবির আহমেদ বলেন আমাদের উপর কেন এমন ঘটনা বার বার হচ্ছে আমি বুঝতে পারছি না। তবে মামলার বিষয়টি নিয়ে আপাতত ভাবছি না। এরআগে ২০২০ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে তৎকালীন দোহার উপজেলা প্রকৌশলী কবির উদ্দিন শাহকে তার কক্ষে ঢুকে তাকে লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সে ঘটনায় মামলা হলে ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জ আসার পথে ডিবির হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিল আমিনুল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button