
যমুনার ভাঙ্গনের কবলে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা
আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ ॥ যমুনা নদীর ভয়াল ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। ভাঙ্গনকবলিত ইউনিয়নগুলো হলো চরকাটারী, বাঁচামারা ও বাঘুটিয়া ইউনিয়ন। চলতি মৌসুমে ৩ শতাধিক বাড়ি-ঘর আবাদী জমিজমা বিলীন হয়েছে। সহায় সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ওইসব এলাকার নদীভাঙ্গন কবলিত মানুষেরা।
ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে চরকাটারী ইউনিয়নের লালপুর, চরকাটারী, কাঠালতুলি, চরকাটারী মন্ডলপাড়া, বোর্ড ঘর বাজার, চরকাটারী বাজার এলাকায়। যমুনা নদীর পাড়ে চরকাটারী ইউনিয়নে জিও ব্যাগ ফেলে অস্থায়ীভাবে করা প্রতিরক্ষামূলক বাঁধে ধস দেখা দেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে ওইসব এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিসসহ শত শত বাড়ি-ঘর জায়গা-জমি।
এ বছর নদীতে পানি আসার মাস খানেক আগে চরকাটারী ইউনিয়নে যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ে যমুনা নদী ভাঙ্গন রোধকল্পে ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ তৈরী করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু নদীর তীব্র স্রোতে ও নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যায় সেই প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ। ফলে ঐতিহ্যবাহী চরকাটারী সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়, চরকাটারী বাজার, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভূমি মসজিদ, মাদ্রাসা ও শত শত বাড়ি-ঘর আবাদী জমি ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়ে যায়।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে যমুনা নদীর ভাঙ্গনের শিকার ওই এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ ঘর-বাড়ি-জিনিস-পত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ নিজের ভিটে মাটি হারিয়ে অন্যের জমির ওপর আশ্রয় নিয়ে খোলা আকাঁশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
চরকাটারী মন্ডল পাড়ার আব্দুল খালেক মন্ডল এ প্রতিবেদককে জানান-নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী ভাঙ্গন শুরু হয়। এবার নিজের বাড়িতে থাকতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
চরকাটারী বোর্ড ঘর বাজার এলাকার আলমগীর হেসেন এ প্রতিবেদককে জানান, যমুুনা নদীর ভাঙ্গনে বাড়ি-ঘর, জায়গা-জমি নদীতে বিলীন হওয়ায় গরু-ছাগল নিয়ে এখন অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে কোন মতে থাকছেন।
এবিষয়ে চরকাটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক মন্ডল জানান, যমুনা নদীর ভাঙ্গনে চরকাটারী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যান কেন্দ্র, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শত শত বাড়ি-ঘর, আবাদি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। তিনি ভাঙ্গন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, তারা ইতিমধ্যে ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শণ করেছেন এবং অর্থ বরাদ্দের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র প্রেরণ করা হযেছে। জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।
এবিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কানিজ ফাতেমা বলেন, যমুনা নদী ভাঙ্গন রোধ কল্পে করা অস্থায়ী প্রতিরক্ষামুলক বাঁধের কিছু কিছু স্থানে ধ্বস দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



