দুর্গাপুরে ভাঙারি দোকানে বিস্ফোরিত সেই বস্তুটি ছিল মর্টারশেল

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় ভাঙারি দোকানে বিস্ফোরিত বস্তুটি মর্টারশেল ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ভাঙারি দোকানদার কাঞ্চন মিয়া বস্তুটি কিনেছেন আরেকজনের কাছ থেকে। আমরা ওই ব্যক্তিকে খুঁজছি ও তাকে পেলে জানা যাবে তিনি কোথা থেকে এটি পেয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন বস্তুটি মর্টারশেল ও অনেক পুরোনো। নিহত সবুজ মিয়া, কাঞ্চন মিয়া ও তার আহত ছেলে নাহিদ লোভ বা কৌতূহলে কেন্দ্রীভূত হয়ে মূলত বস্তুটি খুলতে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, শাবল ও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং এটির বিষয়ে তাদের কোনো আইডিয়া ছিল না। আঘাতের ফলে বস্তুটি বিস্ফোরিত হয়। শাবল ও হাতুড়ি এগুলোর মধ্যে আঘাতে চিহ্ন পাওয়া গেছে।
বিস্ফোরিত মর্টারশেলটি আমাদের না অন্য দেশের সেনাবাহিনীর কিনা এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে পুলিশ সুপার জানান, মর্টারশেলটি খুবই পুরোনো। ব্র্যান্ডের মডেলের চিহ্ন থাকলে বিষয়টি বলা যেত। সাইজটি বলতে পারি ২৬ ইঞ্চির মতো লম্বা হবে এটি।
এ ঘটনার পরদিন থেকে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার, এন্ট্রি টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আজিজুল হক মিয়াসহ তার টিম এবং পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ ওই এলাকায় অবস্থান করছেন। আজ (মঙ্গলবার) ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি হারুন-অর-রশিদ তিনিও ঘটনাস্থল এলাকায় এসেছেন।
উল্লেখ্য, গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় পৌর এলাকার শিবগঞ্জ বাজার হতে পশ্চিমে দিকে মজিদ মার্কেটে ভাড়া করা কাঞ্চনের ভাঙারি দোকানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এতে অটো মেকানিক সবুজ মিয়া (৩৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আর গুরুতর আহত অবস্থায় কাঞ্চন মিয়ার ছেলে নাহিদকে (২৫) প্রথমে দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
বর্তমানে আহত নাহিদ ঢাকা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।




